kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাঁচা মরিচের দাম পড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কাঁচা মরিচের দাম পড়েছে

ঈদের পরই রাজধানীর বাজারে রীতিমতো লংকাকাণ্ড বাধিয়ে ফেলেছিল কাঁচা লঙ্কা অর্থাৎ কাঁচা মরিচ। সরবরাহের ঘাটতির কারণে এমন হয়েছিল।

তবে দুই দিনের বেশি এ অবস্থা থাকেনি। এখন সরবরাহ বেড়েছে, দাম পড়েছে।  

কয়েক দিন আগে এক কেজি কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন পাইকারি দরে এক পাল্লা (পাঁচ কেজি) ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। বিক্রেতারা জানায়, সরবরাহ ভালো থাকলে দাম আরো কমবে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর শান্তিনগর ও ফকিরাপুল বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। বিক্রেতারা জানায়, সরবরাহ সংকট আর ঈদের বাড়তি চাহিদার কারণে দাম বেড়ে কেজিতে ৪০০ টাকা পর্যন্ত হয়েছিল। সরবরাহ ভালো থাকলে দাম আরো কমতে পারে।

কারওয়ান বাজারের কাঁচা মরিচের আড়তদার এরফান মাস্টার জানান, ঈদের পরই লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে কাঁচা মরিচের দাম। এ সময়ে কাঁচা মরিচবাহী কোনো ট্রাক এ বাজারে আসেনি। তাই মাঝে দুই দিন দর অস্বাভাবিক ছিল। এখন দর পড়তে শুরু করেছে। কারণ বগুড়া, নওগাঁ, রাজশাহী থেকে প্রচুর কাঁচা মরিচ আসছে। ভারত থেকে আমদানি করা মরিচও ঢাকায় আসছে।

বাজারে অন্যান্য পণ্যের জোগানও কম, তবে দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। অবশ্য বাজারে এ সময়ে ক্রেতা বেশি নেই। গতকাল কারওয়ান বাজার তেমন জমেনি। অল্প কয়েকজন ব্যবসায়ী ছিল। মাছ বাজারে সবজি-মসলার বাজারের চেয়ে কিছু বেশি ক্রেতা ছিল।

ব্যবসায়ীরা জানায়, রোজার ঈদের পর অল্প কয়েক দিনের মধ্যে বাজার জমে ওঠে। কোরবানির ঈদের পর বাজার জমতে প্রায় এক সপ্তাহ লেগে যায়। তাই এ সময়ে পণ্য আমদানি কমিয়ে দেওয়া হয়।

গতকাল শান্তিনগর বাজারে মাঝারি আকারের (৬০০-৮০০ গ্রাম) একেকটি ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে ৬০০-৮০০ টাকায়। মাঝারি রুই মাছ ২০০-২৫০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৪০০-৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ টাকা, সিলভার কার্প ১২০ টাকা এবং কাতলা ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

শসা ৫০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, গোল আলু ২৫ টাকা, পটল ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৪০ টাকা ও ঝিঙ্গা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। লেবুর হালি ২০ টাকা এবং লালশাক, পুঁইশাক ও অন্যান্য শাকের আঁটি ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

কোরবানির আগে বেড়ে যাওয়া মসলার দাম এখনো কমেনি। গতকাল দেশি পেঁয়াজ ৩৮-৪০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। দেশি রসুন ১৫০-১৬০ টাকা, ভারতীয় রসুন ১৯০ টাকা, আদা মানভেদে ১৩০-২০০ টাকা, দারুচিনি ৩০০-৩১০ টাকা, এলাচ মানভেদে ১০০০-১৭০০ টাকা, লবঙ্গ ১১০০-১৫০০ টাকা ও জিরা ৩৪০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

গরুর মাংস ৪০০ টাকা কেজি, ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা কেজি, পাকিস্তানি মুরগি একটি (গড়ে ৮০০ গ্রাম) ২৫০ টাকা, দেশি মুরগি একটি (গড়ে ৮০০ গ্রাম) ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি হালি ফার্মের লাল ডিম (মুরগি) ৩৬ টাকা ও হাঁসের ডিম ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। চাল, ডাল ও তেলের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি।

দেশি মসুর ডাল ১৪৫-১৫০ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ১১০-১২০ টাকা, মুগ ডাল ১১০ টাকা ও বুটের ডাল ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।


মন্তব্য