kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ ও রাজস্ব আদায়ে সাফল্য

ডিপিডিসির টাস্কফোর্সের মডেল অনুসরণ করার নির্দেশনা

আরিফুজ্জামান তুহিন   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ ও রাজস্ব আদায়ে সাফল্য

গত দুই বছরে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করেছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে বিদ্যুতের বকেয়া বিল বাবদ এক হাজার কোটি টাকা আর ২০ কোটি টাকা বিদ্যুৎ চুরির জরিমানা বাবদ আদায় হয়েছে।

এর ফলে ডিপিডিসির শুধু রাজস্বই বাড়েনি, আর্থিকভাবে লোকসানিতে থাকা প্রতিষ্ঠানটির সিস্টেম লসও কমেছে। ডিপিডিসির এমন সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির স্পেশাল টাস্কফোর্সের সাহসী অভিযানের মতো উদ্যোগ। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মাসিক সমন্বয় সভায় ডিপিডিসির স্পেশাল টাস্কফোর্সের এমন সাফল্যকে মডেল হিসেবে অনুসরণ করার জন্য ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানি ডেসকো, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ (পিডিবি) অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

জানা গেছে, দুই বছর ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ডিপিডিসির স্পেশাল টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ অভিযানের ফলে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ডিপিডিসি ৫০৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ে সক্ষম হয়। আর গত অর্থবছরে এ পরিমাণ আরো বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪৫ কোটি টাকায়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যেখানে ডিপিডিসির রাজস্ব আদায় ছিল ৪৪৮১ কোটি টাকা, সেখানে স্পেশাল টাস্কফোর্স অভিযানের প্রভাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬৮৩ কোটি টাকায়। সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে দাঁড়ায় ৫২২৯ কোটি টাকায়।

জানা গেছে, টাস্কফোর্সের অভিযানে ডিপিডিসির দীর্ঘকালের বকেয়া আদায় হয়েছে। আদায় করা এসব অর্থ সর্বনিম্ন তিন থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত অনাদায়ী ছিল। এ সময় বিভিন্ন অভিযানে দুই কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ চুরি ধরা পড়ে টাস্কফোর্সের কাছে, যার বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকা। অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে সহস্রাধিক শিল্প-বাণিজ্যিক ও আবাসিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া গত দুই বছরের অভিযানে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ চুরির অন্যতম জোন হিসেবে পরিচিত ঢাকার লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, বংশাল, বাংলাবাজার ও স্বামীবাগ এবং নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা, নারায়ণগঞ্জ পূর্ব ও পশ্চিম এলাকায় অভিযান চালায় স্পেশাল টাস্কফোর্স। এসব এলাকায় ১০ শতাংশের ওপর বিদ্যুতের সিস্টেম লস দেখানো হতো। অভিযানের পর এসব এলাকায় সিস্টেম লস নেমে এসেছে ৬ থেকে ৭ শতাংশে।

বিদ্যুতের সিস্টেস লসের পাশাপাশি বিল বকেয়া থাকাও ভয়াবহ রূপ নেয়। ডিপিডিসির প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রভাবশালীরা বিদ্যুৎ বিল দিত না বছরের পর বছর। এ ছাড়া হুক লাগিয়ে ও মিটার টেম্পারিং করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করত তারা। টাস্কফোর্সের অভিযানে বিদ্যুতের বকেয়া বিল যেমন আদায় করা হয়েছে, তেমনি বিদ্যুৎ চুরিও ধরা পড়েছে।

জানা গেছে, এর আগে বিদ্যুতের বকেয়া বিল আদায় ও বিদ্যুৎ চুরি ধরতে বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছেন। তবে ওই সব অভিযানে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। এসব ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক ব্যয় বরাদ্দ, অতিরিক্ত যানবাহন ও পুলিশের সহায়তা থাকলেও ডিপিডিসির টাস্কফোর্সের গত দুই বছরের অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি। আর এ কারণেই বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মাসিক সমন্বয় সভায় ডিপিডিসির স্পেশাল টাস্কফোর্স অভিযানের মডেলকে অনুসরণ করার জন্য ডেসকো, পিডিবিসহ অন্যান্য সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডিপিডিসির এ সাফল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে টাস্কফোর্সের প্রধান ডিপিডিসির সাবেক সচিব (বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারের প্রচলিত আইন ও ব্যবস্থার মাধ্যমেই এটি করা হয়েছে। ডিপিডিসির প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা একটি নজির স্থাপন করলেন। প্রক্রিয়াটি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যাতে ডিপিডিসির সিস্টেম লস কমে আসবে, চুরি সম্পূর্ণই বন্ধ করা সম্ভব হবে।


মন্তব্য