kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মার্কিন বিমান হামলায় সিরীয় ৮০ সেনা নিহত

অস্ত্রবিরতি চুক্তি হুমকির মুখে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মার্কিন বিমান হামলায় সিরীয় ৮০ সেনা নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর বিমান হামলায় সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সিরীয় সরকারি বাহিনীর অন্তত ৮০ সেনা নিহত হয়েছেন। গত শনিবার ‘ভুল করে’ ওই হামলা চালানো হয় বলে স্বীকার করে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সিরীয় সরকারি সেনা নিহতের ঘটনায় গতকাল জরুরি বৈঠকে বসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ওই ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তা পরিষদ এ বৈঠকে বসে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ বিমান হামলার ঘটনায় সিরিয়ায় অস্ত্রবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সহাবস্থানের কারণে জটিল পরিস্থিতিতে আছে সিরিয়া, কিন্তু জোট বাহিনী সচেতনভাবে জানা কোনো সিরীয় সামরিক ইউনিটের ওপর হামলা করে না। জোট বাহিনী এই হামলা ও এর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখবে এ থেকে কোনো শিক্ষা নেওয়া যায় কি না। ’

তবে সিরীয় সেনা অবস্থানে জোট বাহিনীর ওই চারটি বিমান হামলা আইএসকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সিরিয়ার আর্মি জেনারেল কমান্ড। এতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে, এই বিমান হামলা তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ। ’

রাশিয়া বলছে, ওই ঘটনায় আইএস জঙ্গিদের আরো সুবিধা করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর আগে রাশিয়া অভিযোগ করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি না মেনে চলায় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো আরো সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এবং তারা পাল্টা হামলা চালাতে উদ্বুব্ধ হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বিবৃতিতে জানিয়েছে, যৌথ বাহিনী ধারণা করেছিল, তারা কথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। আইএসকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা একটি বোমা হামলা ভুলক্রমে সিরীয় সেনাবাহিনীকে আঘাত করে থাকতে পারে। পরে রাশিয়ার কর্মকর্তারা বিষয়টি তাদের জানালে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে।  

হামলায় সিরীয় সরকারি বাহিনীর অন্তত ৬২ সেনা নিহত হন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান মনিটরিং গ্রুপ জানিয়েছে, ৬২ নয়, মার্কিন বিমান হামলায় সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর ৮০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় রাশিয়া জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরিষদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক আহ্বান করে। রাশিয়ার দাবিতে শনিবার রাতেই নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত সামান্তা পাওয়ার রাশিয়ার এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। বৈঠকের আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার উচিত এ রকম ফালতু কিছু না করে মূল বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া। যে আস্থার ভিত্তিতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তাতে নজর দেওয়া।

সামান্তা পাওয়ার আরো বলেন, ‘২০১১ সাল থেকে আসাদ সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষের ওপর বোমাবর্ষণ করে যাচ্ছে। এর কোনোটিতেই রাশিয়া কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি, তদন্ত দাবি করেনি বা নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেনি। ’ পাওয়ার বলেন, ‘আমরা এখনো তথ্য সংগ্রহ করছি। ’ তিনি বলেন, জাতিসংঘ বিমান হামলার ঘটনাটি তদন্ত করছে। যদি সিরীয় সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা হয়ে থাকে তা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। নিহতের ঘটনায় অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র দুঃখ প্রকাশ করছে।

বিপরীতে রুশ দূত ভিটালি চারকিন বলেন, তিনি কূটনীতিবিদ হিসেবে দায়িত্বের এক যুগে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের এই রকম বাড়াবাড়ি দেখেননি। চারকিন আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময়টিও ছিল ‘সন্দেহজনক’, কেননা তা করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অস্ত্রবিরতি চুক্তির মধ্যেই একটি পরিকল্পিত আইএসবিরোধী অভিযানের দুই দিন আগে। বিমান হামলায় সিরীয় সেনা নিহতের ঘটনায় সিরিয়ার অস্ত্রবিরতি চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে কি না জানতে চাইলে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ান দূত ভিটালি চারকিন বলেন, ‘এটা অনেক বড় প্রশ্ন। আমি দেখতে খুব আগ্রহী ওয়াশিংটন এ ঘটনায় কী প্রতিক্রিয়া দেখায়। কূটনীতিক সামান্তা পাওয়ার আজ যা করেছেন তা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত হয় তাহলে আমরা অনেক বড় সমস্যায় আছি। ’

প্রসঙ্গত, সিরিয়ার যুদ্ধবিরতিতে আইএস ও অন্যান্য উগ্রপন্থী জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা অব্যাহত আছে।


মন্তব্য