kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অবৈধ বুস্টার মেশিন, গ্যাস লাইনের প্রমাণ মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর ও টঙ্গী প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অবৈধ বুস্টার মেশিন, গ্যাস লাইনের প্রমাণ মিলেছে

টাম্পাকো ফয়েলসে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় কারখানা মালিক সৈয়দ মকবুল হোসেন ওরফে লেচু মিয়ার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছে। গত শনিবার রাতে টঙ্গী থানার এসআই অজয় চক্রবর্তী বাদী হয়ে মকবুল হোসেন ও তাঁর ছেলেমেয়েসহ ১০ জনকে আসামি করে এ মামলা করেন।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিক জুয়েল হোসেনের বাবা বাদী হয়ে মকবুল হোসেনসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।

টঙ্গীর বিসিক শিল্পনগীরতে টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় বিস্ফোরণ, আগুন ও ভবনধসের ঘটনায় তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে কারখানাটিতে অবৈধ বুস্টার মেশিন ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। তিতাস গ্যাসের কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল রবিবার কারখানা পরিদর্শন করতে গিয়ে ওই মেশিন ব্যবহারের প্রমাণ পায়। কমিটির একটি সূত্র কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানায়। কারখানাটিতে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তিতাসের স্থানীয় একটি সূত্র।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গতকাল দুপুরে কারখানা পরিদর্শন করে। কমিটির প্রধান প্রকৌশলী রানা আকবর হায়দারীর সঙ্গে ছিলেন অন্য দুই সদস্য প্রকৌশলী বাসুদেব সাহা ও শহীদ হোসাইন সোহাগ। তিতাসের টঙ্গী কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। তাঁরা বিধ্বস্ত কারখানার গ্যাস রেগুলেটিং অ্যান্ড মিটারিং স্টেশনসহ কারখানার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং ছবি তোলেন। পরিদর্শনকালে কমিটি কারখানাটিতে অবৈধভাবে বুস্টার মেশিন ব্যবহার করা হতো বলে প্রমাণ পেয়েছে। তিতাসের টঙ্গী কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, ওই কারখানায় বৈধ সংযোগের পাশাপাশি অবৈধ গ্যাসলাইনও ছিল। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাসলাইন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময় গতকাল বিকেলে বিষয়টি ধরা পড়ে। অবৈধ সংযোগটি ছিল কারখানার পেছনের দিকে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে তিতাস গ্যাসের টঙ্গী কার্যালয়ের সহকারী ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জানান, কারখানার নকশা অনুযায়ী পেছনের দিকে কোনো গ্যাসলাইন থাকার কথা নয়। কিন্তু ওই লাইনটি কিভাবে বসানো হলো, তা দিয়ে গ্যাস এনে কারখানায় ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, এটা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।

বুস্টার মেশিন ও অবৈধ সংযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান প্রকৌশলী রানা আকবর হায়দারী বলেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া গেছে। এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। এর আগে কিছু বলা ঠিক হবে না।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার ওই কারখানার শ্রমিক, তদন্তসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সূত্র কালের কণ্ঠকে জানিয়েছিল, টাম্পাকো কারখানায় দুই টনের একটি বয়লার ব্যবহারের অনুমোদন ছিল। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ অনুমোদন ছাড়াই ১ দশমিক ২ টনের আরেকটি বয়লার বসিয়েছিল। পাশাপাশি অবৈধভাবে এক টনের থার্মোফ্লুইড হিটারও ব্যবহার করত তারা, সেটিও এক ধরনের বয়লার। এতগুলো বয়লার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষ গ্যাসের লাইনে অবৈধভাবে বুস্টার মেশিন লাগিয়েছিল। তা দিয়ে বাড়তি গ্যাস টেনে নিত তারা। সেই বুস্টার মেশিন বিস্ফোরণ থেকেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

উদ্ধার তৎপরতা : গতকাল নবম দিনের মতো ওই কারখানায় উদ্ধার অভিযান চালান সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এখন ধসে যাওয়া ভবনের জঞ্জাল ট্রাক দিয়ে অন্যত্র সরানো হচ্ছে। তবে গতকাল ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি।  

গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে টাম্পাকো ফয়েলসে বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট আগুনে চারটি ভবনের মধ্যে তিনটিই ধসে পড়ে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৩৮ জন। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ১১ জন। আজ সোমবার বিকেলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের ঘোষিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে হতাহত শ্রমিকদের।

 


মন্তব্য