kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দেহরক্ষীদের নিরস্ত্র করে দেখুক হিলারির কী হয় : ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দেহরক্ষীদের নিরস্ত্র করে দেখুক হিলারির কী হয় : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে আবারও ‘হুমকি’ দিয়েছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার রাতে মিয়ামিতে নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প বলেন, ‘এখনই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের দেহরক্ষীদের অস্ত্র নিয়ে নেওয়া হোক, কারণ তিনি (হিলারি) অস্ত্র চান না।

তাদের অস্ত্র নিয়ে নাও, দেখি তাঁর কী হয়। ’ ট্রাম্পের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁর সমর্থকরাও ‘তাদের (হিলারির দেহরক্ষী) নিরস্ত্র করে দেওয়া হোক!’ বলে স্লোগান দেয়।

হিলারিকে ‘দাম্ভিক ও উপাধিসর্বস্ব’ মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী ধ্বংস করতে চান। উল্লেখ্য, মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে নাগরিকদের আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় ও বহনের বৈধতা দেওয়া হয়। হিলারি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে ওই সংশোধনী বাতিল করবেন।

এর আগে মে মাসেও ট্রাম্প নিরস্ত্র দেহরক্ষীদের দিয়ে হিলারির নিরাপত্তার কাজ করার কথা বলেছিলেন। এরপর ৯ আগস্ট আগ্নেয়াস্ত্র অধিকার কর্মীদের এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘হিলারি সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলুপ্ত করতে চান। নির্বাচিত হলে যদি তাঁকে বেছে নিতে হয়, তিনি তাঁর পছন্দের বিচারকই বেছে নেবেন। আপনারা কিছুই করতে পারবেন না। তবে এখানে দ্বিতীয় সংশোধনীর পক্ষের লোকজন থাকতে পারেন। ’ তিনি হিলারিকে সতর্ক করে তখন আরো বলেছিলেন, ‘আমি বলতে পারি, সেই দিন হবে এক ভয়াবহ দিন। ’

ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হিলারির নির্বাচনী শিবির ট্রাম্পকে ‘সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার’ অভিযোগ করেছে। হিলারি শিবিরের মুখপাত্র রবি মুক বলেন, রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী অনেক আগে থেকেই সহিংসতায় উসকানি দিয়ে আসছেন। তিনি সমাবেশে লোকজনকে উসকানি দিতে অথবা মশকরা করতেও এমন মন্তব্য করেন। একজন ব্যক্তি, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘কমান্ডার ইন চিফ’-এর পদ দাবি করছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন বৈশিষ্ট্য কাম্য নয়।

হিলারিপন্থী গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী ‘কারেক্ট দ্য রোড’-এর মুখপাত্র এলিজাবেথ শ্যাপপেল বলেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো কথা বললেন। এটি অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য একটি মন্তব্য, এটি আমাদের জাতির গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মূল অংশগুলোর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। ’ 

২০১২ সালে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মিট রমনির সঙ্গে কাজ করা ওয়াশিংটনভিত্তিক রাজনীতি পরামর্শক স্টুয়ার্ট স্টিভেন্স এক টুইটে বলেছেন, ‘এই হুমকির তদন্ত করা উচিত সিক্রেট সার্ভিসের। ’ সূত্র : গার্ডিয়ান ও রয়টার্স।


মন্তব্য