kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দাম কম তাই চামড়া পাচারের আশঙ্কা

৯০ শতাংশ এখনো ঢাকায় আসেনি

এম সায়েম টিপু   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দাম কম তাই চামড়া পাচারের আশঙ্কা

কোরবানি ঈদের পাঁচ দিন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৯০ শতাংশ চামড়াই রাজধানীর আড়তদারদের কাছে এসে পৌঁছেনি। ফলে চলতি বছর দেশের অন্যতম রপ্তানি শিল্প চামড়াজাত পণ্যের সংকটের আশঙ্কা করছেন এ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ ছাড়া রাজধানীর ট্যানারি মালিকরা এখন পর্যন্ত পশুর চামড়া কেনা শুরু না করায় পার্শ্ববর্তী দেশে চামড়া পাচারের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনতে দেরি করায় এমন আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। দেশের মূল্যবান সম্পদ চামড়া যাতে পাচার না হয় সে জন্য দ্রুত চামড়া কেনা এবং চামড়ার ন্যায্য মূল্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রাজধানীর চামড়ার বাজার নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ট্যানারি মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে কম দামে চামড়া কেনার পরিকল্পনার ফলে দেশের চামড়াশিল্পে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   কারণ এখনো রাজধানীর বাইরের ৯৫ শতাংশ চামড়া ঢাকার আড়তদারদের কাছে এসে পৌঁছেনি। নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে হবে বলে ওই সব চামড়া তারা ঢাকায় আনবে না বলেও মনে করেন তিনি। আর এসব চামড়া সংগ্রহ করতে হলে ট্যানারি মালিকদের বিকল্প উপায়ে ন্যায্য দামে সংগ্রহ করতে হবে বলে তিনি জানান।  

রবিউল আলম আরো বলেন, ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের সিন্ডিকেটের ফলে নির্ধারিত দামে (৪০ থেকে ৫০ টাকা বর্গফুট হিসাবে) চামড়া ঢাকায় আসবে না। এ ছাড়া তিনি জানান, এসব চামড়া দেশের বাইরে পাচার হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন রিটেইল ডিলার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লোকমান মৃধা কালের কণ্ঠকে বলেন, রাজধানীর চামড়ার বাজার শুরু হতে আরো বেশ কয়েক দিন লেগে যাবে। এখন যাঁরা চামড়া সংগ্রহ করেছেন তাঁরা ওই সব চামড়া পাঁচ-সাত দিন লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করবেন। এ ছাড়া এখনো রাজধানীর বাইরের চামড়াও আসেনি। এবার বাজার শুরু হতে বেশ কিছুদিন সময় লাগতে পারে।

লোকমান মৃধা আরো বলেন, এ বছর তাঁরা নির্ধারিত দরেই চামড়া কিনছেন। বাজারও বেশ স্বাভাবিক। তবে এ বছর লবণের দাম বেশি হওয়ায় চামড়া সংরক্ষণে একটু বেশি খরচ পড়বে। তিনি জানান, প্রতিটি চামড়া সংরক্ষণে প্রায় ৩৫০ টাকার মতো খরচ পড়বে। প্রতিটি চামড়ার গড় দাম পড়বে প্রায় এক হাজার ৮০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকা। এ ছাড়া ৭ থেকে ৮ শতাংশ চামড়া এ বছর নষ্ট হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হাজি মো. টিপু সুলতান কালের কণ্ঠকে বলেন, রাজধানীর বাইরে থেকে এখনো কোনো চামড়া ঢাকায় আসেনি। তিনি বলেন, মোট চামড়ার ৯০ শতাংশ এখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে। এসব চামড়া আগামী এক সপ্তাহর মধ্যে আসা শুরু করবে। তবে তিনি জানান, সারা দেশেই ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের নির্ধারিত দামেই চামড়া ক্রয় করা হয়েছে। কেউ কেউ বেশি দামে কিনলে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আগামী ২০ থেকে ২২ মে ইতালির মিলানে চামড়ার একটি আন্তর্জাতিক মেলা হবে। এ মেলায় দেশের অনেক চামড়া ব্যবসায়ী যাবেন এবং চামড়ার চাহিদার ওপর নির্ভর করবে দেশের কোরবানির চামড়া দাম ও পরবর্তী বাজার। পাচার হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতে গরুর চামড়ার চাহিদা একেবারেই কম। এ ছাড়া একসময় ভারতে বকরির চামড়ার কিছু চাহিদা থাকলেও বর্তমানে বিশ্ববাজারে এর কদর কম হওয়ায় ওই চামড়ারও পাচারের কোনো আশঙ্কা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।


মন্তব্য