kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এখনো ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হয়নি

এস এম আজাদ   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এখনো ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হয়নি

রাজধানীর মিরপুরের সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী আফসানা ফেরদৌসের মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি এক মাসেও।

মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত বলে অভিযুক্ত তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রবিনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

তবে তাঁর বাবা আব্দুল হাই এবং বন্ধু মূসা, আশিকুর রহমান ভুইয়া ও সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর তিন বন্ধুকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

আফসানার মৃত্যুর ৩৫ দিন পার হয়েছে। এখনো তাঁর লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশকে দেয়নি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ। গত ২১ আগস্ট আফসানার মৃত্যুকে ‘আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা’ বলে মন্তব্য করেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। এখন পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলছেন, ওই ঘটনায় হত্যার কোনো আলামত মেলেনি। আফসানা মানিকদিতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাশে গুল মোহাম্মদ বাচ্চুর বাড়িতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শোনার কথা পুলিশকে জানিয়েছিল। এখন পুলিশ বলছে, ওই তথ্যের সত্যতা পায়নি তারা। আফসানার মৃত্যু ভাড়া বাসায়ই হয়েছে, যা রবিন ও তাঁর বন্ধুরা ছাড়া আর কেউ দেখেনি। রবিন ও মূসা নিথর অবস্থায় আফসানাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

রবিনের গ্রেপ্তার না হওয়া, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে গড়িমসি, ময়নাতদন্তকারীর ‘আত্মহত্যা’ বলে মন্তব্য—এসব কারণে ক্ষুব্ধ আফসানার স্বজনরা। রবিনকে রক্ষা করতে ষড়যন্ত্র চলছে বলে সন্দেহ করছে তারা। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে আফসানার পরিবার।

কাফরুল থানার পুলিশ জানায়, মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফজলুল হক প্রশিক্ষণে রয়েছেন। গত ২৪ আগস্ট এসআই হাফিজ আহমেদকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাফিজ গতকাল শনিবার বলেন, ‘ঘটনাস্থল শনাক্ত করা ও তিন সহযোগীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরো কিছু অগ্রগতি হয়েছে। আমরা রবিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। আশা করছি, আট-দশ দিনের মধ্যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে যাব। ’

এসআই হাফিজ আহমেদ জানান, গত ২৫ আগস্ট মিরপুর থেকে মূসাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কাজীপাড়ার বাসা থেকে রবিনের বাবা আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিনের বন্ধু আশিক ও সিফাতকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তিন বন্ধুকে ৫৪ ধারার মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আর আব্দুল হাইকে জেলগেটে তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘বাচ্চুর বাড়িতে আমরা খোঁজ নিয়েছি। সেখানে কোনো মেস নেই। চিৎকারের ঘটনাটি ভিন্ন। আফসানার ভাড়া বাসায়ই ঘটনা ঘটে। সে মোবাইলে আত্মহত্যা করবে বলে মেসেজ দেয়। ওই মেসেজ পেয়ে রবিন ও মূসা সেখানে যায়। তারা আফসানাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সিফাতও যায়। পরে সেখানে যায় আশিকুর। ’

বাড়ির লোকজন আফসানাকে দুই দিন আগে থেকে দেখেনি, তাহলে ওই বাড়িতে কিভাবে ঘটনা ঘটল? এ প্রশ্নের জবাবে হাফিজ বলেন, ‘বাড়ির লোকজন আসলে জানে না। তারা ঠিকমতো দেখেনি। ঘটনা ওই বাড়িতেই ঘটেছে। আসলে কী হয়েছে তদন্ত করে দেখছি আমরা। বিয়ে মেনে না নেওয়ার কারণে কি না সেটা খতিয়ে দেখতে রবিনের বাবাকে ধরা হয়েছে। ’ তাহলে আপনারা বলতে চাইছেন আফসানা আত্মহত্যা করেছেন? এ প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।

আফসানার ভাই ফজলে রাব্বি গতকাল বলেন, ‘কয়েকজনকে ধরলেও আসল আসামি ধরা পড়েনি। আমরা জানি না, ন্যায়বিচার পাব কি না। রবিনকে বাঁচাতে কিছু হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এখনো ফরেনসিক রিপোর্ট দেয়নি। অথচ এক মাস আগে ডাক্তার আত্মহত্যা বলে মন্তব্য করে। আমরা ওই রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। ’ তিনি বলেন, ‘ঘটনা বাচ্চুর বাড়িতেই হয়েছে। পুলিশ বলেছে। এলাকার লোকজনও বলেছে। ’

উল্লেখ্য, মানিকদির ছাপরা মসজিদ এলাকার আনসার আলীর সাততলা বাড়ির নিচতলায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকতেন আফসানা ও রবিন। পাশেই গুল মোহাম্মদ বাচ্চুর বাড়ি। আনসার আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া দেলোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমি নিজে এমন কিছু শুনিনি বা দেখিনি। তবে লোকজনকে বলাবলি করতে শুনেছি। ঘটনাটি নাকি ওইখানে হয়েছে। ’ ওই বাড়ির আরো কয়েকজন ভাড়াটিয়া বলেন, ১২ আগস্টের দুই দিন আগে থেকে আফসানাকে তাঁরা দেখতে পাননি।

 


মন্তব্য