kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রামে ছেলের হাতে মা খুন

অন্য দুই জেলায় দুজনকে হত্যা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রামে ছেলের হাতে মা খুন

ছেলের হাতে বাবা খুনের ঘটনার এক দিন পর এবার চট্টগ্রামে মাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর ছেলে নিজে গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার নগরের গোসাইলডাঙ্গার বারিক বিল্ডিং মোড় এলাকায় ‘সরকারি বিল্ডিং’ নামের ভবনে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন জামালপুর ও পাবনায় হত্যা করা হয়েছে আরো দুজনকে।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম জানান, ছেলের হাতে নিহত নারীর নাম কুমকুম চৌধুরী (৪৫)। তাঁর স্বামী আয়কর আইনজীবী সুখময় চৌধুরী ঢাকায় কর্মরত। তাঁদের পৈতৃক বাড়ি সাতকানিয়ায়।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিল্ডিং নামে পরিচিত ওই ভবনের একটি বাসায় কুমকুম দুই ছেলে সোমনাথ চৌধুরী (২৪) ও সুমিত চৌধুরীকে (২০) নিয়ে থাকতেন। ৯ মাস ধরে তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। ছোট ছেলে সুমিত এবার উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা দিয়ে তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। এর পর থেকে ছেলেটি ‘মানসিক সমস্যা’য় ভুগছিল বলে স্বজনরা পুলিশকে জানিয়েছে।

পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া নিয়ে গতকাল সুমিতকে বকাঝকা করেন বড় ভাই সোমনাথ। এটাকে কেন্দ্র করেই সে মাকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমনাথ চৌধুরী জানান, সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে তাঁর ছোট ভাই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, সুমিতকে বকাঝকা করে তিনি সকাল ১১টার দিকে কলেজে চলে যান। দুপুর ১টার দিকে বাসায় ফিরে কয়েকবার কলিংবেল বাজানোর পর ছোট ভাই এসে দরজা খুলে দিয়ে সেখানেই পড়ে যায়। তখন তিনি দেখতে পান সুমিতের সারা শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। এরপর তিনি মায়ের কক্ষে ছুটে যান। দেখেন মা বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তাঁর কোনো সাড়া নেই। এক প্রতিবেশীর সহায়তায় গুরুতর আহত ভাইকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান বলে সোমনাথ জানান।

সুমিতকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাক-কান-গলা বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (বন্দর) জয়নুল আবেদীন বলেন, গোসাইলডাঙ্গা সরকার বিল্ডিং নামে একটি ভবনে সুমিত তার মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে এবং গলা কেটে ফেলে। এরপর সে নিজেও একই দা দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। আহত অবস্থায় অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়ার সময় সে মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সুমিতের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি হত্যার অভিযোগে এবং অন্যটি আত্মহত্যাচেষ্টার মামলা।

উল্লেখ্য, এর আগে শুক্রবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার পশ্চিম মেখল এলাকায় সাইফুল ইসলাম ওরফে শাহরুখ (২২) নামের মানসিকভাবে অসুস্থ এক যুবকের দায়ের আঘাতে তার বাবা মো. মুছা (৫২) নিহত হন।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার ছোনটিয়া গ্রামে আসাদুল ইসলাম আসাদ (৩০) নামের এক পোশাক কারখানার কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে গতকাল দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আসাদ ওই গ্রামের মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে। তিনি গাজীপুরের একটি সোয়েটার কারখানায় কাজ করতেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসাদের মা করিমন বেওয়ার সঙ্গে তাঁর খালা নারগিস বেগমের বিরোধ চলছে। এর জের ধরে খালাতো ভাই নাজিমউদ্দীন লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করে। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

আসাদের বড় ভাই কবির হোসেন জানান, মা ও খালার বিরোধ মেটানোর কথা ছিল তাঁর ভাইয়ের। কিন্তু খালাতো ভাই লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করেছে।

সদর থানার ওসি মো. নাসিমুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পাবনা প্রতিনিধি জানান, আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামে গতকাল সন্ধ্যায় এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর নাম মায়াজান বেগম (৬৫)। হত্যার অভিযোগে তাঁর ছেলেবউকে আটক করেছে পুলিশ।

আটঘরিয়া থানার ওসি ফারুক আহমেদ জানান, মায়াজানের ছেলে শাহ আলম ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। বাড়িতে তাঁর মায়ের সঙ্গে স্ত্রী রীমা খাতুনের কলহ লেগেই থাকত। কিছুদিন আগে শাশুড়ির ওপর অভিমান করে বাবার বাড়ি চলে যান রীমা। গতকাল বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাশুড়ির সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রীমা লাঠি দিয়ে শাশুড়িকে মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি।

 


মন্তব্য