kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইসি পুনর্গঠনে জড়িত থাকতে চায় বিএনপি

শফিক সাফি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ইসি পুনর্গঠনে জড়িত থাকতে চায় বিএনপি

নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনে আবারো ‘সার্চ কমিটি’ গঠনের যে আভাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, এর জবাবে বিএনপি বলেছে, সরকার যদি সত্যিই নিরপেক্ষ একটি কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠনের উদ্যোগ নেয় তাহলে তাতে অংশ নেবে বিএনপি। দলটির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

আগেরবার ‘সার্চ কমিটি’র আহ্বানে আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি দল নতুন নির্বাচন কমিশনের জন্য তাদের পছন্দের ব্যক্তির নামের তালিকা জমা দিলেও বিএনপি দেয়নি। কিন্তু এবার এই ইস্যুতে বিএনপি পিছিয়ে থাকতে চায় না বলে নেতাদের অনেকে জানিয়েছেন। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার যদি সত্যি একটি নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠনের উদ্যোগ নেয় তাহলে অবশ্যই আমরা তাতে অংশ নেব। আমরা আমাদের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরব। গতবার আমরা গিয়েছিলাম জিল্লুর রহমানের আমন্ত্রণে। সে সময় কোনো তালিকা দিইনি। এবার যদি সুযোগ থাকে অবশ্যই আমরা সর্বজনস্বীকৃত ব্যক্তিদের তালিকা দেব। ’

এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। যদি সরকার আমাদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তো জনগণের স্বার্থে আমাদের কর্মসূচি দিতে হবে। ’

দলটির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল (সৌদি আরবে অবস্থানরত) ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো আমন্ত্রণপত্র আমরা পাইনি। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হিসেবে বিএনপি তাদের মতামত দেবে এটাই স্বাভাবিক। আমন্ত্রণপত্র পেলে অবশ্যই দলের চেয়ারপারসন সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত জানাবেন। ’

দলটির একাধিক নেতা জানান, সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রকৃতি ও কৌশল এখন পরিবর্তন হচ্ছে। বিএনপির এখনকার আন্দোলন হচ্ছে জনসংযোগের মধ্যে দলকে ধরে রেখে, সংগঠনগুলোকে গোছানো এবং শক্তিশালী করা। অতি দ্রুত সংগঠনগুলোকে গুছিয়ে গণসংযোগের মাত্রা বাড়ানো হবে। একপর্যায়ে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও গণসংযোগে নামবেন। এর মূল কারণ হচ্ছে, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করা। আর একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রধান নিয়ামক হচ্ছে ইসি। এই প্রতিষ্ঠানটিকে যদি দলনিরপেক্ষ ব্যক্তির মাধ্যমে পুনর্গঠন করা যায়, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ নিশ্চিত করা যায়। বিএনপি মনে করে, ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও তারা সরকার গঠন করতে পারবে। এ জন্য বিএনপি কোনোভাবেই এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় দূরে থাকতে চায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের ভাইস চেয়ারম্যান পর্যায়ের এক নেতা যিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও দেখভাল করেন তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, আইনমন্ত্রী সার্চ কমিটির প্রসঙ্গ তোলার পরপরই এ নিয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর এবং দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার আলোচনা হয়েছে। পবিত্র হজ পালনের জন্য দলীয় প্রধান সৌদি আরব যাওয়ার কারণে সে আলোচনা আর বেশি এগোয়নি। তিনি দেশে ফিরলেই এ বিষয়ে বিএনপি বিস্তারিত কাজ শুরু করবে। এ কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন নেতাদের নিয়োজিত করা হবে।

দলটির নেতারা এ-ও বলছেন, একতরফা নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হলে তাঁরা তা মানবেন না। প্রয়োজনে তাঁরা আবারো রাজপথের আন্দোলনে নামবেন।

উল্লেখ্য, সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রপতি সব সময় সিইসি ও ইসি নিয়োগ দিলেও ২০১২ সালে সর্বশেষ কমিশন গঠন করা হয় সার্চ কমিটির মাধ্যমে। সে সময় প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। এবারও সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি নিয়োগের আভাস দিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘এবারও আগের প্রক্রিয়ায় ইসি নিয়োগ হবে। ২০১২ সালে যেভাবে বর্তমান ইসি গঠন করা হয়েছিল, এবারও সেভাবেই হবে। ’


মন্তব্য