kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পুনর্নিরীক্ষণে আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পুনর্নিরীক্ষণে আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশিত হয়েছে গতকাল শনিবার। শিক্ষা বোর্ডগুলো গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই নিজস্ব ওয়েবসাইটে আলাদাভাবে ফল প্রকাশ করতে থাকে।

আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ ১০ বোর্ডে এবার প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা গেছে। পুনর্নিরীক্ষণে প্রত্যেকের ফলই আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি এক হাজার ৯ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডে নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১১৫ জন এবং ফেল করা থেকে পাস করেছে ২০৪ জন পরীক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীরা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ফল জানতে পারছে। বোর্ডগুলো ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করার পর টেলিটক মোবাইল ফোন থেকে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।  

জানা যায়, এবারই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল। এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছিল আট লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ জন এবং জিপিএ ৫ পায় ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। তাদের মধ্যে তিন লাখ ৩৩ হাজার ৩২২টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বোর্ডে এক লাখ ৪০ হাজার, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৫ হাজার, রাজশাহী বোর্ডে ৪০ হাজার, কুমিল্লা বোর্ডে ৩২ হাজার, যশোর বোর্ডে ৩১ হাজার, সিলেট বোর্ডে ১৭ হাজার, বরিশাল বোর্ডে সাড়ে ১৯ হাজার, দিনাজপুর বোর্ডে সাড়ে ২৭ হাজার, মাদ্রাসা বোর্ডে ১২ হাজারের মতো উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ৩২৮ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৯ জন। এ ছাড়া ফেল করা থেকে পাস করেছে ৮৬ জন। যশোর বোর্ডে ফল পরিবর্তন হয়েছে ১৪৩ জনের। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪১ জন। আর ফেল করা ৩৯ জন পাস করেছে। বরিশাল বোর্ডে ৭৮ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে দুজন এবং ফেল করা থেকে পাস করেছে ৩০ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে ফল পরিবর্তন হয়েছে ১০৫ জনের। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে আটজন এবং ফেল থেকে পাস করেছে ৩৯ জন পরীক্ষার্থী।

বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষা করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল পাওয়া গেছে বৃত্ত ভরাটে। দেখা গেছে, একজন ৮৫ পেয়েছে, সেখানে উল্টো ৫৮ বৃত্ত ভরাট করা হয়েছে। আবার একজন ১৩টি প্রশ্নের উত্তর দিলেও একটির উত্তরের নম্বর মোট নম্বরের সঙ্গে যোগ হয়নি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান বলেন, “এবার থেকে নম্বরপত্র দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা দেখতে পাচ্ছে তার জিপিএ কত এবং প্রাপ্ত নম্বর কত। এমনও আছে ৭৯ পেয়েছে, তার গ্রেড কিন্তু ‘এ’। আগে সে জানত না কত নম্বর পেয়ে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে। এবার জানতে পারায় সে পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেছে। ফলে এবার শিক্ষার্থীরা অন্যান্যবারের চেয়ে আবেদন বেশি করেছে। তবে যারাই আবেদন করেছে তাদের সবার খাতাই পুনর্নিরীক্ষা করে নতুন ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ”


মন্তব্য