kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অপরাধী শনাক্তে নিখুঁত চুল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অপরাধী শনাক্তে নিখুঁত চুল

পলাতক অপরাধীদের ধরতে এবার চুলই যথেষ্ট! ডিএনএ নষ্ট হয়ে গেলেও চুল দিয়েই তাদের শনাক্ত করা যাবে বলে দাবি ফরেনসিক বিজ্ঞানীদের। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞান সাময়িকী ‘প্লস-ওয়ান’-এ গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষণায় ফরেনসিক বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, চুলের ভেতর থাকা নানা ধরনের প্রোটিনই একজনের চুলকে অন্যজনের চুলের থেকে বেশ কিছুটা আলাদা করে দেয়। আর কোনো দুজন মানুষের চুলে একই ধরনের প্রোটিন একই পরিমাণে থাকে না। দুজন মানুষের চুলে যেমন প্রোটিনের রকমফের থাকে, তেমনি এর পরিমাণেও থাকে তারতম্য। একই ধরনের প্রোটিন কারো চুলে কম থাকে, কারো চুলে থাকে বেশি। আবার তৃতীয় কোনো ব্যক্তির চুলে থাকা প্রোটিন বা এর পরিমাণের সঙ্গে বাকি দুজনের চুলে থাকা প্রোটিনের ধরন বা পরিমাণ একেবারেই মেলে না। মেলে না সেই প্রোটিনের গঠন কাঠামোও (মলিকিউলার স্ট্রাকচার)। ফলে চুলের ভেতর থাকা প্রোটিনের রকমফেরই একজনের চেয়ে আরেকজনকে আলাদা করে দেয়। আর ডিএনএ পরীক্ষার মতোই প্রায় নিখুঁত হতে পারে অপরাধীদের ‘চুল দিয়ে চেনা’র সেই পদ্ধতি।

বিজ্ঞানের সব পদ্ধতিতেই যেমন থাকে, অপরাধী খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে ফরেনসিক বিজ্ঞানের ডিএনএ পরীক্ষাতেও থেকে যায় তেমনই কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির শঙ্কা। শুধু তা-ই নয়, ফরেনসিক বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ডিএনএ পরীক্ষার কিছু ঘাটতিও রয়েছে। চুলের প্রোটিনের ফারাক বুঝে অপরাধীদের চিনে ফেলার পদ্ধতিটা সে ক্ষেত্রে আরো নির্ভুল হয়ে উঠতে পারে বলে গবেষকদের দাবি।

গবেষকদলের সদস্য ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক বিজ্ঞানী অনুরাধা বসু বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অপরাধী খুঁজে বের করার ব্যাপারে ডিএনএ পরীক্ষা পদ্ধতি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না। যেমন ডিএনএ দূষিত পানির ছোঁয়ায় বা অত্যধিক তাপে নষ্ট হয়ে যায়। তা ছাড়া অত্যধিক আলো বা বিশেষ কয়েকটি আলোকতরঙ্গ ডিএনএর ওপর এসে পড়লে তা একটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। আবার স্বাভাবিক নিয়মেও ডিএনএ নষ্ট হয়ে যায়। ডিএনএ নষ্ট হয়ে গেলে সেই ডিএনএ পরীক্ষা করে অপরাধী চেনার কাজটা ঠিকমতো করা যায় না। সে ক্ষেত্রে চুলের প্রোটিনের তারতম্য বিচার করে অপরাধী চেনার পদ্ধতি অনেকটাই কার্যকর হতে পারে। কারণ বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন তৈরি করতে পারে যেসব অ্যামাইনো এসিড, তাদের গঠন কাঠামো আর তাদের গঠন কাঠামোর ফারাকটা চুলের প্রোটিনেই খুব ভালোভাবে বোঝা যায়। সূত্র : আনন্দবাজার।


মন্তব্য