kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

অপরাজিতা

যে জীবন প্রেরণার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



যে জীবন প্রেরণার

এসিডদগ্ধ হওয়ার পর জীবনযুদ্ধ জয় করে র‍্যাম্পে হাঁটছেন রেশমা কোরেশি। ছবি : এএফপি

রেশমা কোরেশি। এসিড যাঁকে থামাতে পারেনি।

আত্মশক্তিতে অটল এই নারী এখন একজন ক্যাম্পেইনার। একজন র‍্যাম্প মডেল। তিনি ভিডিওতে সৌন্দর্যবিষয়ক নানা পরামর্শও দিয়ে থাকেন। সুন্দরী প্রতিযোগিতা ও ফ্যাশন উইকের মঞ্চে সেরা সুন্দরীদেরই অংশ নেওয়ার চিরায়ত যে ধারণা, তা বদলে দিলেন তিনি। গত ৮ সেপ্টেম্বর ‘নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইক’-এর র‍্যাম্প মাতালেন ১৯ বছর বয়সী ভারতীয় এই তরুণী।

২০১৪ সালে রেশমার দুলাভাই তাঁর মুখে এসিড নিক্ষেপ করে। ওই ঘটনায় তাঁর মুখ ঝলসে যায় এবং একটি চোখ অন্ধ হয়ে যায়। রেশমা এবং তাঁর বোনকেও বিভিন্নভাবে হয়রানি করত দুলাভাই। ওই এসিড হামলার ঘটনা রেশমার জীবনটাকে একদম বদলে দেয়। এমন একটা পরিস্থিতি দাঁড়ায় যে তখন আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন তিনি।

এ সময় একটি দাতব্য সংস্থা রেশমাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। তাদের পরামর্শেই তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। ওই সংস্থাটির বিভিন্ন প্রচারণার অন্যতম একটি মুখ এখন রেশমা। ভারতে প্রকাশ্যে যে এসিড বিক্রি হয়, তা বন্ধ করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন রেশমা। তিনি আশা করেন, এসিড হামলার শিকার অন্য মানুষেরা যেন সব ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে পারে, সেই সাহস তিনি জোগাতে পারবেন।

রেশমা নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকের মঞ্চে হেঁটেছেন লম্বা হাতা, সাদা রঙের গাউন পরে। গাউনের ওপর ভারী সুতোর কাজ করা ছিল। ভারতীয় ডিজাইনার অর্চনা কোচ্চারের ডিজাইন করা পোশাকে হেঁটেছেন তিনি। একই ডিজাইনারের পোশাকে মঞ্চে হেঁটেছেন আলোচিত অভিনেত্রী সানি লিওন। দুজন একসঙ্গে ছবিও তুলেছেন।

অনুষ্ঠানের পর উচ্ছ্বসিত রেশমা বলেন, ‘জীবনকে পুরোদমে উপভোগ করার অধিকার আমাদেরও আছে। এখানে এসে আমার বেঁচে থাকার মানেটাই পাল্টে গেল। অসাধারণ অভিজ্ঞতা!’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, অ্যাসিডদগ্ধরা কিভাবে বেঁচে থাকে এটি সবার জানা উচিত। সেই সঙ্গে তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ করে দেওয়া উচিত। ’

রেশমা এখন অ্যাসিড হামলার শিকার মানুষদের ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম অনুপ্রেরণা। নিজেদের আড়ালে লুকিয়ে না রেখে প্রকাশ্যে এসে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে অ্যাসিডদগ্ধদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সূত্র : বিবিসি বাংলা, আনন্দবাজার।


মন্তব্য