kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্ত্রীর লাশ কাঁধে ১০ কিমি...

সেই ধন মাঝিকে বাহরাইন রাজার ৯ লাখ রুপি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সেই ধন মাঝিকে বাহরাইন রাজার ৯ লাখ রুপি

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের বাসিন্দা ধন মাঝির কথা মনে আছে? গত ২৫ আগস্ট তার ছবি প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছিল দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে। হাসপাতালে স্ত্রীর মৃত্যুর পর অর্থাভাবে অ্যাম্বুল্যান্স বা অন্য কোনো যান জোগাড় করতে না পেরে স্ত্রীর লাশ কাঁধে নিয়ে ১০ কিলোমিটার হেঁটে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

পাশে চোখ মুছতে মুছতে হাঁটছিল তাঁর মেয়ে।

সেই ধন মাঝি আবারও সংবাদে। তাঁর দুর্দশার খবর সংবাদপত্রে পড়ে জানতে পারেন বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ইশা আল খলিফা। ধন মাঝির দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন খলিফা। দিল্লির বাহরাইন দূতাবাসে পৌঁছায় বাদশাহর পাঠানো প্রায় ৯ লাখ রুপির চেক। সেই চেক নিতেই গত বৃহস্পতিবার জীবনে প্রথমবার বিমানে চড়ে দিল্লি গিয়েছিলেন ধন মাঝি।

এর আগে বাহরাইনের প্রধানমন্ত্রীও অর্থ সহায়তা করেছেন ধন মাঝিকে। ওড়িশার কয়েকজন বিধায়কও তাঁর হাতে টাকা তুলে দিয়েছেন। সাহায্য এসেছে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকেও। রাজধানী ভুবনেশ্বরে আদিবাসী শিশুদের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিয়েছে তাঁর তিন মেয়ের আজীবন পড়াশোনার।

মেয়েদের সেই স্কুলে ভর্তি করে দিয়েই দিল্লির বিমান ধরেন ধন মাঝি। রাজার চেক নিতে যাওয়ার সময়ও তাঁর পরনে ছিল নীল লুঙ্গি আর একটি পুরনো জামা। কাঁধে গামছা। বাহরাইন দূতাবাসে সংবাদমাধ্যমকে ধন মাঝি নীল রঙের চেকটা দেখান। ব্যাংক অব বাহরাইন অ্যান্ড কুয়েতের ওই চেকে লেখা টাকার অঙ্কটা ৮,৮৭,৯৪৯।

সংবাদমাধ্যমকে ধন মাঝি জানান, এ সব টাকাই তিনি ব্যাংকে দীর্ঘমেয়াদি আমানত হিসাবে রেখে দেবেন, যাতে তাঁর মেয়েদের পড়াশোনার জন্য খরচ করতে পারেন। তাঁর মেয়েদের পুলিশ বা ডাক্তার করার ইচ্ছা ধন মাঝির।

ভারতের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জেলা হান্ডির হাসপাতাল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে গ্রামের বাড়িতে মৃত স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। অনেক অনুরোধেও গাড়ি দেয়নি হাসপাতাল।

প্রায় ১০ কিলোমিটার স্ত্রীর লাশ কাঁধে নিয়ে হাঁটার পর এক স্থানীয় টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক তাঁকে দেখতে পান। ওই সাংবাদিক তাঁর কাছে পুরো ঘটনা শুনে ফোন করে স্থানীয় জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানান। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে সেখানে আসে অ্যাম্বুল্যান্স। সেই অ্যাম্বুল্যান্সে করেই স্ত্রীর লাশ আর ছোট মেয়েকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফেরেন ধন মাঝি। পরে প্রশাসনের সহায়তায় লাশের শেষকৃত্যও হয়। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য