kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঢাকায় ফেরা

চিরচেনা রূপে ফিরছে ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চিরচেনা রূপে ফিরছে ঢাকা

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে রাজধানীবাসী। অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে কমলাপুর স্টেশনে আসার পর ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় তোলা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

ঈদের ছুটি বুধবার শেষ হলেও মাঝের এক দিন বৃহস্পতিবারও বেশির ভাগ কর্মজীবী বাড়তি ছুটি কাটিয়েছেন গ্রামের বাড়িতে আপনজনদের সঙ্গে। অনেকে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

কেউ কেউ বিদেশেও বেড়াতে যান। অবশেষে গতকাল শুক্রবার থেকে একযোগে তাঁরা ফিরতে শুরু করেছেন ঢাকার কর্মপরিবেশে। ফলে আকাশ, সড়ক, রেল ও নৌপথে ভিড়ের বিড়ম্বনা পোহাতে হয় ঢাকামুখী এসব মানুষকে।

ঈদুল আজহার ছুটিতে গত কয়েক দিন প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় চিরাচরিত ভিড় দেখা যায়। গতকাল কোথাও কোথাও হালকা যানজটও সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুললেও কার্যক্রম পুরোদমে চালু হয়নি। ফলে বৃহস্পতিবারও ঈদের আমেজ লক্ষ করা যায় বিভিন্ন অফিসে। দিন শেষেও ঢাকামুখী কর্মজীবী মানুষের ভিড় দেখা যায়নি। গতকাল শুক্রবার থেকে ঢাকামুখী ছোটাছুটি ছিল লক্ষণীয়। প্রায় একসঙ্গে ফেরার তাড়ায় ফিরতি পথেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। ট্রেন, বাস ও লঞ্চের ফিরতি টিকিট পেতে হয়রান হতে হচ্ছে প্রায় সব জেলায়ই। অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন, বাস ও লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ফিরছে গন্তব্যে। এ ছাড়া যাত্রীদের বাড়তি চাপের কারণে সব পরিবহনেরই নির্ধারিত শিডিউল এলোমেলো হয়ে গেছে। এসব পরিবহনের বেশির ভাগই দ্রুত ঢাকায় এসে আবার ফিরতি ট্রিপ ধরার জন্য ছুটে যায় বিভিন্ন এলাকায়। তবে ঢাকায় ফিরেও অনেকে বিভিন্ন বাস ও লঞ্চঘাটে যানজটের মুখে পড়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়।

গতকাল ভোরে লঞ্চে বরিশাল থেকে ঢাকা সদরঘাটে এসে নামেন ফিরোজ আহম্মেদ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বরিশাল থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ছেড়ে আসা সুন্দরবন-১০ লঞ্চে বেশ আরামেই এসেছিলাম। কিন্তু সদরঘাটে নেমে বাস ও অন্যান্য পরিবহনের বিশৃঙ্খল অবস্থার কারণে যানজটে অনেক সময় আটকে থাকতে হয়। ওই সময় বাসগুলোকে টার্মিনাল পর্যন্ত ঢুকতে না দিলেই বরং যাত্রীদের জন্য ভালো হতো। কারণ সরু রাস্তায় বাসগুলো এলোমেলোভাবে অবস্থান নিয়ে পুরো পথ আটকে রাখে।

বাসে খুলনা থেকে আসা সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘বহু কষ্টে টিকিট পেয়েছি। কিন্তু বাস কোনোমতে ভোররাতে গাবতলী নামিয়ে দিয়ে চলে গেছে। এ সময় অন্ধকার থাকায় সকাল হওয়ার অপেক্ষায় গাবতলী বাসস্ট্যান্ডেই বসে থাকতে হয়েছে। ওই অন্ধকারের মধ্যে গাবতলী থেকে মিরপুর ১২ নম্বরের বাসায় যাওয়ার সাহস হয়নি। তাই ঢাকায় এসেও প্রায় আড়াই ঘণ্টা বাস টার্মিনালে বসে থাকার কষ্ট সইতে হয়েছে। ’

ঢাকা নৌবন্দরের কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন কালের কণ্ঠকে বলেন, যাত্রীদের সুবিধার জন্য ঘাটে সব ধরনের সহায়তা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লঞ্চগুলো ভালোভাবেই যাত্রী বহন করছে। যাত্রীর চাপ বেশি হওয়ায় বেশির ভাগ লঞ্চই স্পেশাল ট্রিপ দিচ্ছে।

এদিকে গতকাল ঢাকা সদরঘাটে লঞ্চযোগে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের পরিস্থিতির ছবি ধারণ করতে গিয়ে একটি লঞ্চের রশি ছিঁড়ে গিয়ে একটি অনলাইন সংবাদ পোর্টালের এক ফটো সাংবাদিকসহ দুজন আহত হয়েছেন। তাঁদের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


মন্তব্য