kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ছোট্ট জান্নাতের শরীরজুড়ে নির্যাতন

গৃহকর্তা গ্রেপ্তার

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ছোট্ট জান্নাতের শরীরজুড়ে নির্যাতন

চাঁদপুরের ৯ বছরের শিশু জান্নাত গাজীপুরের জয়দেবপুরে গৃহকর্মীর কাজ করত। সেখানে প্রায়ই তাকে নির্যাতন করা হতো।

তখন মা আর ভাইবোনকে দেখতে তার খুব ইচ্ছা করত। এ জন্য বাড়ি আসতে চাইত সে। আর এ ‘অপরাধে’ তাকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার দিনমজুর মিন্টু ও ফিরোজা বেগমের পাঁচ সন্তান। স্থানীয় বেড়িবাঁধের ওপর ছোট্ট খুপরি ঘরে তাদের বাস। কয়েক বছর আগে স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে রেখে মিন্টু অন্যত্র

চলে যান। এ অবস্থায় ফিরোজা আর পেরে উঠছিলেন না। অভাবের তাড়নায় পরিচিত এক ব্যক্তির কথামতো ভালো টাকা পাওয়া যাবে বলে চতুর্থ সন্তান জান্নাতকে তিনি গাজীপুরে গৃহকর্মীর কাজে দেন। গৃহকর্তা ওমর ফারুক ও তাঁর স্ত্রী মনি বেগমের বাড়ি গাজীপুরের পশ্চিম ভূরুলিয়ায়।

সূত্র মতে, মোস্তফা সরদার নামের এক ব্যক্তির কথায় এক বছর আগে মা ফিরোজা বেগম শিশুটিকে গাজীপুরে ওমর ফারুক-মনি বেগম দম্পতির বাসায় কাজের জন্য দেন। শুরু থেকেই তার ওপর বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নির্যাতন করা হতো। মার খেলেই মা আর ভাইবোনের কথা মনে পড়ত তার। তখন বাড়ি আসতে চাইত সে। আর বাড়ি আসার কথা বললেই তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো।

ঘটনার শিকার শিশুটির মা ফিরোজা বেগম জানান, ভালো টাকা-পয়সা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাঁর মেয়েকে নেওয়া হলেও সেখানে তাকে উপর্যুপরি নির্যাতন করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির শরীরজুড়ে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেখা গেছে। শরীরে রয়েছে বিদ্যুতের তার দিয়ে পেটানোর অসংখ্য দাগ। মাথার একাধিক জায়গায় জখম হওয়ার কারণে চুল কাটা। খবর পেয়ে শিশুটিকে কয়েক দিন নিজের কাছে রেখে গত বুধবার বাড়ি নিয়ে আসেন মোস্তফা সরদার। পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে শিশুটিকে দেখে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। দুপুরে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটিকে দেখতে যান জেলা পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার। এ সময় তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, সুস্থ-বিবেকবান কোনো মানুষ এমন অমানবিক কাজ করতে পারে না। তিনি জানান, ওই দম্পতিকে আটক করার চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, গৃহকর্তা ওমর ফারুক ঢাকা বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশনে কার্গো বিভাগে চাকরি করেন। তাঁর স্ত্রী মনি বেগম একজন গৃহবধূ। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার শিশুটির মা বাদী হয়ে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানায় মামলা করার পর গতকাল সন্ধ্যায় গৃহকর্তা ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মোস্তফা সরদারকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনুর রশিদের বরাত দিয়ে জানান, ওমর ফারুক শিশুটিকে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, শিশুটিকে মারধরের ব্যাপারে তিনি স্ত্রীকে নিষেধ করলেও স্ত্রী তা শুনতেন না।

হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার দীপন দে জানান, শিশুটির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মানসিকভাবেও শিশুটি ভেঙে পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শরীরের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ চিকিৎসা প্রয়োজন।


মন্তব্য