kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লেনদেন বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

জঙ্গিদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আবুল কাশেম   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গিদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

গুলশান, শোলাকিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলায় আহত-নিহত ও আটক জঙ্গিদের ব্যাংক হিসাবের পূর্ণ তথ্য নেই সরকারের কাছে। জঙ্গিদের কারা অর্থের জোগান দিচ্ছে, কোথায় তা খরচ হচ্ছে—সেসব তথ্য ব্যাংকগুলোর কাছে জানতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে যেসব জঙ্গির নাম প্রকাশ হয়েছে, আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই তাদের ব্যাংক হিসাবের সব তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে কোনোমতেই যাতে জঙ্গিরা অর্থ লেনদেন করতে না পারে, সে জন্য সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থ মন্ত্রণালয়কে একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ সঞ্চালন বন্ধে সব সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে মনিটরিং জোরদার করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে গত ৩০ আগস্ট চিঠি পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়কে ফিরতি চিঠিতে জানায়, এ জন্য ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সন্ত্রাসী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো হিসাব থাকলে তার মূল্যায়ন প্রতিবেদন অক্টোবর মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ জানান, গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে কোনো ব্যাংক যাতে কোনোভাবে সন্ত্রাসে অর্থায়নে ব্যবহৃত হতে না পারে বা কোনো সন্ত্রাসী যাতে ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো লেনদেন করতে না পারে, তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও হেড অব বিএফআইইউ আবু হেনা মোহা. রাজী হাসানের সভাপতিত্বে গত ১৯ ও ২০ জুলাই ৫৬টি (প্রতিদিন ২৮টি করে) তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও প্রধান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাদের নিয়ে দুটি সভা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কোনো ব্যাংক যাতে কোনোভাবে সন্ত্রাসে অর্থায়নে ব্যবহৃত হতে না পারে বা কোনো সন্ত্রাসী যাতে কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো ধরনের লেনদেন করতে না পারে, তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা শাখা ব্যবস্থাপকদের (ম্যানেজার) এই সতর্কবার্তা প্রেরণ করবেন।

ওই বার্তায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসে অর্থায়নে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সত্তার কোনো হিসাব পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে দেখা এবং এ ধরনের কোনো হিসাব পাওয়া গেলে অবিলম্বে তা স্থগিত করে বিএফআইইউকে জানাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও আর্থিক লেনদেন বন্ধে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরীক্ষা বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট দৈবচয়ন ভিত্তিতে বিশেষ পরিদর্শন বা অনুসন্ধান পরিচালনা করবে।

ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির আগামী সভাগুলোতে মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে অর্থ লেনদেন বন্ধে করণীয় নির্ধারণসহ বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সব সভার কার্যবিবরণীসহ (সভায় বক্তারা যে যা বলেছেন, তার লিখিত বিবরণী) অগ্রগতির তথ্যও বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলা হয়েছে।

সিরিয়ায় আইএসের পক্ষে যুদ্ধরত বাংলাদেশি জঙ্গি সাইফুল হক সুজন গত ১০ ডিসেম্বর মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হয়। গত ১৮ মে বিএফআইইউর মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে বলা হয়েছে, নিহত জঙ্গি সাইফুল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে আটটি ব্যাংকে পরিচালিত মোট ৩৭টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি হিসাবের লেনদেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর থেকে স্থগিত করা হয়েছে। এসব হিসাবে ১৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা জমা রয়েছে।


মন্তব্য