kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয়

শোলাকিয়ায় উপস্থিতি কম ঈদ জামাতে

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শোলাকিয়ায় উপস্থিতি কম ঈদ জামাতে

গত ঈদুল ফিতরের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদগাহ মাঠের কাছেই ঘটেছিল জঙ্গি হামলার ঘটনা। এবার ঈদুল আজহায় ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যেও সেই মাঠে মুসল্লির উপস্থিতি ছিল হাতে গোনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

শোলাকিয়ার ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে কম মুসল্লির উপস্থিতিতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদুল ফিতরের জামাতে কয়েক লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটলেও সে সময় জঙ্গি হামলার পর গত মঙ্গলবার ঈদুল আজহার জামাতে মুসল্লি হয়েছে অনেক কম।

কেউ কেউ বলেছে, মুসল্লির চেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যাই বরং বেশি ছিল এবারের জামাতে। তবে ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জামাতে মুসল্লির উপস্থিতি কম ছিল। আবহাওয়া ভালো থাকলে মুসল্লি আরো বেশি হতো।

সরেজমিন শোলাকিয়া ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের জামাতের প্রধান মাঠটি ঘিরে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়। প্রথমবারের মতো মোতায়েন করা হয় তিন প্লাটুন বিজিবি। ছিল পুলিশ, র‍্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি। পুরো মাঠে ছিল গোপন ক্যামেরার ছড়াছড়ি। আনাচকানাচে ঘুরে বেড়িয়েছে গোয়েন্দা বাহিনীর লোকজন। গত ঈদে জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এবার শোলাকিয়ায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। তবে শোলাকিয়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, তারা এবার ঈদের নামাজ পড়েছে অন্য ঈদগাহে। তারা জানায়, এত এত পুলিশের মাঝে বসে নামাজ পড়তে ভালো লাগে না। তাই তারা বাড়ির কাছের ঐতিহ্যবাহী মাঠটি ছেড়ে অন্য এলাকায় গিয়ে ঈদের নামাজ পড়েছে।

ঈদের আগের দিন রাতে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যা সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে স্বল্পসংখ্যক মুসল্লি ঈদের নামাজে অংশ নিতে শোলাকিয়া যায়। প্রত্যেক মুসল্লিকে অন্তত তিনবার তল্লাশির মুখে পড়তে হয়। প্রবল বৃষ্টিতে মাঠের স্থানে স্থানে পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে যায়। কয়েক শ মুসল্লি এই পানি ও কাদার মধ্যেই ঈদের জামাত আদায় করে।

নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিদের কেউ কেউ বলেছে, দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ শোলাকিয়ার ব্যবস্থাপনা ভালো না। প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে এখানে নামাজ আদায় করতে হয়। সামান্য বৃষ্টিপাতে মাঠ নামাজের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। ঐতিহাসিক এ মাঠের সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন, যাতে বৃষ্টিবাদলে নামাজে ব্যাঘাত না ঘটে।

এবার ঈদুল আজহার জামাত ছিল শোলাকিয়ার ১৮৯তম জামাত। শেষ পর্যন্ত কোনো রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে জামাত শেষ হয়। জামাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি কামনা করে দোয়াসহ জঙ্গিবাদবিরোধী  লড়াইয়ে সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। এর আগে কঠোর পুলিশি বেষ্টনীর মধ্যে মাঠে নেওয়া হয় ইমামকে।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটির সভাপতি মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাসও জামাতে লোক কম হওয়ার কারণ হিসেবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে দায়ী করেন। তিনি দাবি করেন, এবার জামাতে সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নিয়েছে। তবে স্থানীয় লোকজন বলছে, এ সংখ্যা পাঁচ শর বেশি হবে না কিছুতেই। স্থানীয় এক মুসল্লি কালের কণ্ঠকে জানান, আগের বছরগুলোর ঈদুল আজহার জামাতে কমপক্ষে হলেও ছয় থেকে আট হাজার লোক হতো।

এবারের ঈদের জামাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা ছাড়াও জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াই করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেসব সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের আত্মার শান্তি ও জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াইয়ে সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


মন্তব্য