kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এমপি পদও ছাড়লেন ডেভিড ক্যামেরন

লিবিয়ায় হামলার জন্য দোষারোপ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এমপি পদও ছাড়লেন ডেভিড ক্যামেরন

প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার তিন মাসের মাথায় সংসদ সদস্য (এমপি) পদও ছাড়লেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। এর মধ্য দিয়ে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণাও দিলেন তিনি।

নতুন প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণেই তিনি পার্লামেন্ট থেকে পদ্যাগত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ডেভিড ক্যামেরনের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলকে প্রভাবিত করে যথেষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ছাড়াই লিবিয়ায় হামলা চালানোর অভিযোগ এনেছেন ব্রিটিশ এমপিরা।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) নিয়ে গত জুনে অনুষ্ঠিত গণভোটে হেরে যাওয়ার পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন ডেভিড ক্যামেরন। ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ছিলেন তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন। গত সোমবার পদত্যাগ করার পর তিনি বলেন, তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের ‘ক্ষোভের’ কারণ হয়ে থাকতে চান না। নিজ নির্বাচনী এলাকায় এক সমাবেশে ডেভিড ক্যামেরন পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনেক সম্মান পেয়েছি। কিন্তু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পার্লামেন্টে পেছনের আসনে বসে থাকা কঠিন। ’ এ সময় তিনি রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণাও দেন।

২০০১ সালে অক্সফোর্ডশায়ারের উইটনি থেকে কনজারভেটিভ পার্টির এমপি নির্বাচিত হন ডেভিড ক্যামেরন। ২০০৫ সালে তিনি দলের প্রধান নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ২০১০ সালে। ক্যামেরনের পদত্যাগের ফলে তাঁর ছেড়ে দেওয়া উইটনি অক্সফোর্ডশায়ার আসনে উপনির্বাচন হবে।

লিবিয়ার পতনের দায় ক্যামেরনের : লিবিয়ায় হামলা চালিয়ে দেশটিকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে দায়ী করেছে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি। গত বুধবার কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উপযুক্ত গোয়েন্দা তথ্য কিংবা কোনো ধরনের সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়াই লিবিয়াতে হামলা চালানো হয়েছে। লিবিয়ার স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে সরানো বিরাট বড় ভুল ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ব্রিটেনের চিলকোট তদন্ত প্রতিবেদনেও ২০০৩ সালে ইরাকে হামলার জন্য তত্কালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে দায়ী করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্লেয়ার কোনো যথাযথ কারণ ছাড়াই সাদ্দাম হোসেনকে উত্খাতে ইরাক হামলায় যুক্ত হন।

গত বুধবার প্রকাশিত সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যামেরন ইরাক যুদ্ধের ভুল থেকে নেওয়া কোনো শিক্ষাই লিবিয়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগাননি। লিবিয়ায় হামলার পর ক্ষমতা দখল না করার কৌশল নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু এ কৌশলও কোনো কাজে আসেনি।

গত জুনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের হয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেয় ব্রিটেনের জনগণ। এতে ইইউপন্থী ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত সোমবার তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। ব্রেক্সিটের জন্য অনেকে ক্যামেরনকে দায়ী করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লিবিয়ায় হামলার কারণেও তাঁকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

লিবিয়ায় হামলার ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলকে প্রভাবিত করার কারণে ক্যামেরনকে পুরোভাগে দায়ী করেছে সংসদীয় কমিটি। বলা হয়, গাদ্দাফির পতনের পর যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স দেশটির পুনর্গঠনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

সংসদীয় কমিটির প্রধান ক্রিসপিন ব্লান্ট বলেন, লিবিয়ায় হামলা না করে গাদ্দাফির সঙ্গে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কাজে লাগানো যেত। ব্লেয়ার লিবিয়ায় হামলা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে গাদ্দাফির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়ুয়া গাদ্দাফির ছেলে সাইফ গাদ্দাফির মাধ্যমে সমঝোতার সুযোগকেও হাতছাড়া করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের হস্তক্ষেপের ফলে লিবিয়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ধসে পড়েছে, বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠী ও স্থানীয় গোত্রগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের জন্ম দিয়েছে। সৃষ্টি করেছে অভিবাসী সমস্যা। চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার। আর গাদ্দাফি সরকারের অস্ত্র, গোলাবারুদ সমগ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছে পুরো উত্তর আফ্রিকা। ’ সূত্র : বিবিসি, দি গার্ডিয়ান।


মন্তব্য