kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তিন দেশ থেকে আসা সাড়ে ৯ হাজার যাত্রী জিকা পর্যবেক্ষণে

তৌফিক মারুফ   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তিন দেশ থেকে আসা সাড়ে ৯ হাজার যাত্রী জিকা পর্যবেক্ষণে

সিঙ্গাপুরের পর এবার থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া থেকে আসা যাত্রীদেরও স্বাস্থ্যগত তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে এ পদক্ষেপ কার্যকর করা হয়েছে।

ওই সব দেশ থেকে আসা সব যাত্রীকে বিমানে থাকা অবস্থায়ই বিশেষ ফরম দেওয়া হয়। তা পূরণ করে বিমান থেকে নেমে ইমিগ্রেশন লবিতে ঢোকার পথেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ টিমের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। এখানে নির্দিষ্ট দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের পূরণ করা স্বাস্থ্য ফরম জমা দিয়ে দিতে হবে। এ ছাড়া এ বিমানবন্দরে যেকোনো দেশ থেকে আসা যাত্রীদেরই শরীর স্ক্যান করে ভেতরে ঢুকতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। জিকা ভাইরাস থেকে সুরক্ষার স্বার্থে সতর্কতা হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থায় গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৪১৬ জন যাত্রীকে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের আওতায় নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের কারো শরীরে তাত্ক্ষণিকভাবে জিকার কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি।

এদিকে জিকা ও ডেঙ্গুর বাহক হিসেবে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে এখন নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতির খোঁজ করছে সরকার। বিশেষ করে ঘরবাড়ির মধ্যে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি থেকে জন্মানো এ মশা নিয়ন্ত্রণে কারিগরি সমস্যার কারণে নতুন পদ্ধতি চান বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য এরই মধ্যে দেশে উদ্ভাবিত নতুন একটি প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার নিয়ে চলছে আলাপ-আলোচনা।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে অন্য দেশের নাগরিকদের সঙ্গে ১০ জনের বেশি বাংলাদেশি জিকায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই তত্পর হয়ে ওঠে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সিঙ্গাপুরফেরত সব যাত্রীর নাম, পরিচয়, ঠিকানাসহ শারীরিক অবস্থার সার্বিক তথ্য সংরক্ষণ শুরু করা হয় বিমানবন্দরে স্থাপিত বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্প থেকে। একই সময় থেকে বিদ্যমান স্ক্যানিং সিস্টেমকে আরো জোরালো করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সমন্বিত বিশেষ টিম বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণব্যবস্থা চালু করে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর বা অন্য কোনো দেশে জিকায় আক্রান্ত কোনো বাংলাদেশিকে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে না বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ)

অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৩ সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে আগত সব যাত্রীর স্বাস্থ্যগত তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর ৩ সেপ্টেম্বর থেকে একই পদক্ষেপ নেওয়া হয় সিঙ্গাপুর থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রে। অবশ্য এর আরো আগে থেকেই জিকা নিয়ন্ত্রণে আমাদের প্রস্তুতি ছিল। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আফ্রিকার তালিকাভুক্ত দেশগুলো থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আগের মতো এখনো সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে আগত সব যাত্রীকে তাদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা আমাদের প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের আওতায় পর্যবেক্ষণে রাখব। কারণ অনেকের শরীরে তাত্ক্ষণিক কোনো উপসর্গ বা লক্ষণ নাও থাকতে পারে, কিন্তু শরীরে বয়ে আনা বাহক থেকে পরবর্তী সময়েও এটির প্রকাশ ঘটতে পারে। ’

ডা. আবুল খায়ের জানান, বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর (কোরবানির ঈদের দিন) এক হাজার ২৪১ জন এবং পরের দিন ১৪ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ এক হাজার ৫১৭ জনের তথ্য রেকর্ড করে তাদের শরীর স্ক্যান করা হয় রোগ শনাক্তের জন্য। তবে এখন পর্যন্ত জিকা ভাইরাসের উপসর্গ ধরা পড়েনি।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, দেশে প্রবেশ করা কারো শরীরে যদি জিকা শনাক্ত হয় তবে তাদের চিকিৎসার জন্য সরকারের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা করা আছে। শনাক্তকৃত রোগীদের দ্রুত ওই হাসপাতালে নিয়ে আসা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্বের ২৩টি দেশে মশকবাহিত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উত্কণ্ঠায় পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশও। তবে তখন বাংলাদেশে বা প্রবাসী কোনো বাংলাদেশি জিকায় আক্রান্ত না হলেও নানামুখী সতর্কতা ও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেয় সরকার। পরে গত মার্চ মাসে চট্টগ্রামে জিকায় আক্রান্ত এক রোগী শনাক্ত হয়। চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। ফলে জিকা ইস্যুটি অনেকটাই চাপা পড়ে যায়।

ওই সূত্র জানায়, ডেঙ্গুর মতোই এডিস মশা থেকে ছড়ানো জিকা ভাইরাস নিয়ে এ বছরের শুরুতে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। সংস্থাটি ওই সময়ই গঠন করেছে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিশেষ টিম। বেশির ভাগ দেশেই জারি করা হয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে এডিস মশা ও ডেঙ্গুপ্রবণ বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এ রোগের আশঙ্কা নিয়ে শুরু হয়েছিল উদ্বেগ।


মন্তব্য