kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জমে উঠেছে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাট

চড়া দাম তবু বেড়েছে বিক্রি

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চড়া দাম তবু বেড়েছে বিক্রি

গতকাল শনিবার দুপুর ১টা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাদেক হোসেন খোকা মাঠ।

এই মাঠে বসেছে কোরবানির পশুর হাট। নির্ধারিত জায়গা পূর্ণ। এরপর রাস্তায় বাঁশ পুঁতে সারি সারি গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। যথারীতি চলাচলে ভোগান্তি মানুষের। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত হন ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি এসেছিলেন গরুর হাট পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু পুরো রাস্তা হাটের দখলে থাকায় তিনিও ঢুকতে পারেননি। রাস্তা থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে চলে গেলেন তিনি।

হাটের ইজারাদার ফরহাদ ভূঁইয়া বাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাটে গরু বেশি আসায় নির্ধারিত স্থানের কিছুটা বাইরে এসেছে। তবে এতে জনসাধারণের তেমন সমস্যা হচ্ছে না। যান চলাচলে স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকগণ কাজ করছেন। ’

নটর ডেম কলেজের উল্টোপথের সড়কে রাস্তায় ইজারাদারের হাসিল কাউন্টার বসানো হয়েছে। সেখানে রাস্তায় বেশ কিছু গরুও রাখা হয়েছে। ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পশুর হাটের সঙ্গে ঈদের আনন্দ অনেকটা জড়িত। তাই এ ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা নমনীয়। এর পরও যদি কেউ বেশি ভোগান্তির সৃষ্টি করে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

গতকাল ছিল ছুটির দিন। রাজধানীর সব হাটই ছিল জমজমাট। সকাল থেকেই হাটে ক্রেতাসমাগম বাড়তে থাকে। হাটসংশ্লিষ্টরা বলছে, দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত সব হাটেই অনেক কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে। ক্রেতারা প্রয়োজনমাফিক গরু-খাসি কিনতে হাটের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরছে।

সকাল ১১টা। মেরুল বাড্ডার আফতাবনগর হাট থেকে একটি গরু কিনে বাসায় যাচ্ছেন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম। জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গরুর দাম একটু বেশি মনে হলেও দেশি গরু কিনতে পেরে ভালো লাগছে। বাসার নিচে গ্যারেজে গরু রাখার জায়গা থাকায় ঈদের দুই দিন আগেই কিনে ফেলেছি। অন্য বছরের তুলনায় এবারের হাটের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ভালো। ’

রহমতগঞ্জ খেলার মাঠে বসেছে জমজমাট গরুর হাট। সেখানকার ইজারাদার শফি মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ হাটে ইতিমধ্যে চার হাজার পশু এসেছে। এর মধ্যে বড় গরুটির দাম পাঁচ লাখ টাকা চাওয়া হলে তা তিন লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে। ’ সন্ধ্যার আগেই শতাধিক গরু বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি। এই হাটে আসা ক্রেতা মালেক নাছির বলেন, ‘গরুর দাম অনেক বেশি। যে গরু গত বছর ৫০ হাজার টাকায় কিনেছি তা এখন ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ’

রাজধানীর পল্লবী ৭ নম্বর সেকশনের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ। তিনি পল্লবী ইস্টার্ন হাউজিং পশুর হাট থেকে একটি ছোট আকারের গরু কিনেছেন ৭৫ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, ‘ঈদ ছাড়া এ গরু কোনোভাবেই ৫০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা শুনেছিলাম ভারতের গরু আসবে। তাই অপেক্ষাও করেছি। কিন্তু ঈদের আর বেশি সময় বাকি নেই। বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়েই গরু কিনতে হয়েছে। ’

তবে কিছুটা ব্যতিক্রমী কথা শোনালেন কামরাঙ্গীরচর হাটের ইজারাদারের ছোট ভাই মোস্তফা কামাল সরকার। তিনি বলেন, ‘ঈদের দুই দিন বাকি থাকলেও আমাদের হাটে পশু নেই বললেই চলে। আমাদের হাটে যেসব ট্রাক গরু নিয়ে আসে, তাদের জোর করে হাজারীবাগ ও লালবাগ হাটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে আমরা এবার বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হব। ’

একই অবস্থা চোখে পড়ল মেরুল বাড্ডা হাটের সামনেও। শুক্রবার রাতে কিছুক্ষণ অবস্থান করে দেখা যায়, মেরুল বাড্ডা আফতাবনগর হাটের স্বেচ্ছাসেবকরা এ রাস্তা দিয়ে কোনো গরুর ট্রাক দেখামাত্র এর গতি রোধ করে তাদের হাটে প্রবেশ করাতে বাধ্য করছে। কোনো গরুর

ব্যবসায়ী অন্য হাটে যেতে চাইলেও তাদের বাধ্য করা হচ্ছে এ হাটে যেতে।

এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ৯টি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ১৪টি হাটের ইজারা দিয়েছে। এসব হাটে দুই করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের টিম, পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার, স্থায়ী কন্ট্রোল রুম, জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনসহ সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


মন্তব্য