kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাবির শিক্ষকের লাশ

মামলা আত্মহত্যায় প্ররোচনার

রাবি প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মামলা আত্মহত্যায় প্ররোচনার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আকতার জাহানের লাশ ময়নাতদন্ত করে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাননি চিকিৎসকরা।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনেও একই কথা বলা হয়েছে।

তাঁরা বলছেন, বিষক্রিয়ায় এই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। ভিসেরা পরীক্ষার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে।

এদিকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে নগরের মতিহার থানায় একটি মামলা করেছেন আকতার জাহানের ছোট ভাই কামরুল হাসান রতন। তবে মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি।

গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের নিজ কক্ষের দরজা ভেঙে সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন পুলিশ ও তাঁর সহকর্মীরা। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক আকতার জাহানকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, হাসপাতালে আনার অনেক আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। রাতে পুলিশ জুবেরী ভবনের ওই কক্ষ থেকে চিরকুট ও বিষের বোতল উদ্ধার করে।

গতকাল শনিবার দুপুরে আকতার জাহানের মরদেহের সুরতহাল এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এরপর বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা হয়। বিকেল ৫টার দিকে মামলা দায়ের করার পর পরিবারের লোকজন তাঁর মরদেহ নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা মতে মৃতদেহের সঙ্গে আমার বোনের স্বহস্তে লিখিত একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে, যা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। সেই নোটের হাতের লেখা যে আকতার জাহানের নিজ হাতের লেখা তা তাঁর বিভাগের সহকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। ওই নোট থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারো না কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। ’ এজাহারে আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন বাদী।

শুক্রবার রাতে আকতার জাহানের জুবেরীর আবাসিক কক্ষ থেকে যে চিরকুটটি উদ্ধার করা হয় সেখানে বলা হয়, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক ও মানসিক চাপের কারণে আমি আত্মহত্যা করলাম। সোয়াদকে যেন তার বাবা কোনোভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে। ...আমার মৃতদেহ ঢাকায় না নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেওয়ার অনুরোধ করছি। ’ মহানগর পুলিশের মতিহার জোনের সহকারী কমিশনার একরামুল হক বলেন, ‘মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’

শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই, পুলিশের ধারণা আত্মহত্যা : গতকাল দুপুর ১২টার দিকে আকতার জাহানের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়ার পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।

দুপুর পৌনে ২টার দিকে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. এনামুল হক বলেন, ‘ওই শিক্ষকের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বিষক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হতে পারে বলে সন্দেহ করছি। ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। ’

এর আগে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আমীর জাফর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবন থেকে উদ্ধারকৃত শিক্ষকের লাশের সুরতহাল করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ’ ওই শিক্ষকের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে তিনিও দাবি করেন।

গতকাল সকাল ১০টায় পরিবারের পাঁচ সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে পৌঁছেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আকতার জাহানের ভাই কামরুল হাসান রতন, ভগ্নিপতি শওকাত হোসেন খোকন, মামাতো ভাই শামীম হাসান রানা, ইকবালের সঙ্গে আরো একজন ছিলেন।

সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকরা জানান, আকতার জাহানের মা শয্যাশায়ী। ঢাকার মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকায় মায়ের নিবাস। মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী ময়নাতদন্তের পর তাঁর লাশ ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।


মন্তব্য