kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিরিয়ায় শান্তি ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া চুক্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সিরিয়ায় শান্তি ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া চুক্তি

গৃহযুদ্ধকবলিত সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির জন্য সমঝোতা চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। এর মাধ্যমে আগামীকাল সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সূর্যাস্তের পর থেকে সিরীয় সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

এ ছাড়া সিরিয়ায় আইএসসহ অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর ওপর যৌথভাবে বিমান হামলা চালাবে উভয় দেশ।

ম্যারাথন আলোচনার পর গতকাল শনিবার জেনেভায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এই সমঝোতার কথা জানান। দুই সপ্তাহ ধরে বেশ কিছু উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়। তাদের মধ্যে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের যুক্তরাষ্ট্র এবং আসাদ সরকারকে রাশিয়া সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে কোনো পক্ষই আসাদ সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে সিরিয়ায় জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী তুরস্ক। জার্মানিও এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ‘সতর্কতার সঙ্গে’ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, ‘আজ সের্গেই ল্যাভরভ ও আমি, আমাদের প্রেসিডেন্ট ও আমাদের দেশের পক্ষ থেকে সিরিয়ার সব পক্ষকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করার আহ্বান জানাচ্ছি। একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ সংঘাত সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে শেষ করার লক্ষ্যে আমরা এ পরিকল্পনায় পৌঁছেছি। ’

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ‘ধারাবাহিক অবিশ্বাস সত্ত্বেও এই দুটি পক্ষ পাঁচটি নথি তৈরি করেছে। এই নথিগুলো গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যর্থ হওয়া যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত এবং সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সমন্বয় তৈরি করবে। ’ তবে উভয় পক্ষই নথিগুলো প্রকাশ না করতে সম্মত হয়েছে। ল্যাভরভ আরো বলেন, ‘এটা (সমঝোতা) রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র তৈরি করেছে। ’

চুক্তি অনুযায়ী, সিরিয়ায় রাশিয়া সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্র ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো সমর্থিত বিদ্রোহী বাহিনীগুলো আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে কিছুদিন লড়াই বন্ধ রাখবে। এই ফাঁকে বিদ্রোহী বাহিনীগুলো আলেপ্পোর মতো স্থানে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো থেকে আলাদা হওয়ার সুযোগ পাবে। কারণ এসব স্থানে বিদ্রোহী ও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো মিলেমিশে সরকারি বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। চুক্তির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাশিয়া যদি আসাদ সরকারকে যুদ্ধবিরতি মানতে চাপ দিতে সক্ষম হন, তাহলে মস্কো ও ওয়াশিংটন একটি যৌথ সামরিক সমন্বয় ইউনিট গঠন করবে। পরে এই সমন্বিত ইউনিট নির্ধারিত লক্ষ্যে (জঙ্গি স্থাপনায়) হামলা চালাবে। এ বিষয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ বলেন, ‘আমরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে রাশিয়া ও আমেরিকান বিমানবাহিনী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলা চালাবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, আজ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করছে। আমরা আশা করছি, এই পরিকল্পনা সিরিয়ায় সহিংসতা বন্ধ, দুর্ভোগ লাঘব এবং শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে সক্ষম হবে। ’ তবে কোনো পক্ষই আসাদ সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেনি।

তবে জন কেরি ও ল্যাভরভ উভয়ই এই পরিকল্পনাকে জটিল বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা বলেন, এই পরিকল্পনা সরকার ও প্রধান বিদ্রোহীগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সরকারি বাহিনীকে বিদ্রোহী অধ্যুষিত আলেপ্পো থেকে সরিয়ে নিতে হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে ত্রাণকর্মীরা সেখানে অবাধে যেতে পারেন।

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই চুক্তিকে সতর্কতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছে সিরিয়ার বিদ্রোহী বাহিনীগুলো। বিদ্রোহীদের সমন্বিত গ্রুপ ‘হাই নেগোসিয়েশন কমিটি’ (এইচএনসি) গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, এর মাধ্যমে কয়েক লাখ বেসামরিক মানুষ মুক্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এইচএনসির মুখপাত্র বাসমা কদমানি বলেন, এর মধ্য দিয়ে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ অবসানের শুরু হবে। তিনি বলেন, এই চুক্তিকে স্বাগত তাঁরা জানাচ্ছেন, যদি তা বাস্তবায়িত হয়। এ ক্ষেত্রে আসাদ সরকারকে রাশিয়ার চাপ দিতে হবে। চুক্তির গ্যারান্টির বিষয়ে ল্যাভরভ সতর্ক করে দিয়েছেন, রাশিয়া এই যুদ্ধবিরতির শতভাগ নিশ্চয়তা দেবে না। কারণ চুক্তি বাস্তবায়ন করা সব পক্ষের দায়িত্ব।

ইতিমধ্যে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সিরিয়ার সরকারকে তা জানানো হয়েছে এবং তারা তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত রয়েছে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স, বিবিসি।

 


মন্তব্য