kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে সমীক্ষা

বিষণ্নতায় বাড়ে উগ্রবাদের ঝুঁকি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিষণ্নতা থেকে উগ্রবাদী মতাদর্শের প্রতি ঝুঁকে পড়ার সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, সহিংস প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন (এসভিপিটি) জন্মানোর ঝুঁকির সঙ্গে বিষণ্নতার লক্ষণগুলোর যোগসূত্র রয়েছে।

দুর্ঘটনা বা স্বজন হারানোর মতো জীবনের প্রতিকূল ঘটনাগুলোয় বিষণ্নতা ঠেকানো গেলে এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা জোরালো করলে এসভিপিটির ঝুঁকি দূর করা সম্ভব।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নাগরিকের ওপর একটি সমীক্ষা চালিয়ে এই যোগসূত্র খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা। কিংস কলেজ লন্ডন ও কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালনা করে। সম্প্রতি ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি’তে সমীক্ষাটি প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় এসভিপিটির মানদণ্ডটি ছিল চরমপন্থার প্রতি ঝুঁকে পড়ার প্রাথমিক পর্যায় নির্ণয় করা। সমীক্ষাটি চালাতে যুক্তরাজ্যের ইস্ট লন্ডন ও ব্র্যাডফোর্ডে মুসলিম ঐতিহ্য নিয়ে বসবাসকারী ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৬০৮ জন বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিকে বেছে নেওয়া হয়। তাদের ১৬টি প্রশ্ন করা হয়। প্রশ্নগুলো ছিল বিভিন্ন মাত্রার সহিংস প্রতিবাদ ও উগ্রবাদী আচরণকে সমর্থন করা বা এর নিন্দা করা সংক্রান্ত। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের তাদের বিগত এক বছরের জীবনে শারীরিক জখম, স্বজন হারানো, চাকরি চলে যাওয়া, পুলিশ বা আদালতের মুখোমুখি হওয়ার মতো প্রতিকূল ঘটনাগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এ ছাড়া তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খুঁজে বের করার প্রশ্নও ছিল।

গবেষণা শেষে দেখা গেছে, জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিষণ্নতা ঠেকানো ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা জোরালো করলে তা সীমিতভাবে এসভিপিটির ঝুঁকি কমাতে পারে। গবেষকদের পরামর্শ, এসভিপিটির ঝুঁকি কমাতে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও সামাজিক সম্পর্ক বাড়ানো অনেক বেশি কার্যকর। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, উগ্রবাদ ও মানসিক রোগের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একটি ছোট্ট পদক্ষেপ মাত্র। তাঁদের গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে জীবনের প্রতিকূল ঘটনা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সহিংস প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন জন্মানোর ঝুঁকি এবং এতে বিষণ্নতার প্রভাব নির্ণয় করা। সূত্র : মেডিক্যাল এক্সপ্রেস।


মন্তব্য