kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রামে ৪০০ কারখানার শ্রমিকরা অনিশ্চয়তায়

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রামে ৪০০ কারখানার শ্রমিকরা অনিশ্চয়তায়

ঈদুল আজহার ছুটির আগে আজ শনিবারই শেষ কর্মদিবস শিল্প-কারখানাগুলোতে। কিন্তু গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৯৪৮টি কারখানার মধ্যে প্রায় অর্ধেক শ্রমিকদের বেতন কিংবা বোনাস পরিশোধ করেনি।

এই কারখানাগুলো আজ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করবে বলে আশ্বস্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

তবে শেষ দিনে একসঙ্গে চার শতাধিক কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিকের বেতন-বোনাস পরিশোধের কারণে আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বোনাস এবং ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শ্রমিকদের আগস্ট মাসের বেতন পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা মানেনি বেশির ভাগ কারখানা কর্তৃপক্ষ। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ৯৪৮টি শিল্প-কারখানার মধ্যে মাত্র ৪৫৫টি কারখানার শ্রমিকরা বোনাস হাতে পেয়েছে। এর মধ্যে আছে ২৫৯টি পোশাক কারখানা এবং অন্যান্য শিল্পের ১৯৬টি কারখানা। তবে অর্ধেকের বেশি কারখানা বোনাস  পরিশোধ করেনি। আর ৬৩৭টি পোশাক কারখানার মধ্যে গতকাল পর্যন্ত বেতন পরিশোধ করেছে ৩৬৭টি কারখানা। আর অন্যান্য ৩১১টি শিল্প-কারখানার মধ্যে ১৮৪টিতে আগস্ট মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ আজ শেষ দিনে ৩৯৭টি কারখানায় বেতন এবং ৪৯৩টি কারখানায় শ্রমিকদের বোনাস পরিশোধ করা হবে বলে জানা গেছে।

তবে আজ শনিবারের মধ্যেই শতভাগ পোশাক কারখানা শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দিবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু। গতকাল বিকেলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেসব কারখানা কর্তৃপক্ষ এখনো শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করেনি তারা কালকের (শনিবার) মধ্যেই দিয়ে দেবে। রমজানের ঈদের মতো কোরবানির ঈদেও চট্টগ্রামে শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করছি। ’

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অনেক কারখানা কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করেই শেষ দিনের জন্য বসে থাকে। বিশেষ করে ছোট কারখানাগুলো ঈদের আগে একেবারে শেষ কর্মদিবসে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, শ্রম মন্ত্রণালয় ঈদের আগে ১০ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধের নির্দেশনা দিলেও মালিকপক্ষের জন্য সেটা খুব বেশি অসুবিধা হওয়ার কথা না। কারণ বেশির ভাগ কারখানা এমনিতেই প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করে থাকে। বিশেষ করে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে (ইপিজেড) প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া থাকে।

কিন্তু এর পরও চট্টগ্রামের প্রায় অর্ধেক কারখানা তাদের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করাটাকে মানসিক সমস্যা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে অনেকে শ্রমিকদের শেষ মুহৃর্তে অন্যত্র চলে যাওয়া ঠেকাতে ইচ্ছে করেই শেষ দিনে পাওনা পরিশোধ করে।

বিজিএমইএ পরিচালক ও সংগঠনের লেবারবিষয়ক স্থায়ী কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত আ ন ম সাইফুদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বেশির ভাগ কারখানা বেতন এবং বোনাস একসঙ্গে পরিশোধ করে থাকে। আলাদা দুই সময়ে বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে গেলে সময়ও বেশি অপচয় হয়। এ ছাড়া প্রতি মাসে শ্রমিকদের অন্তত ১০ শতাংশ মাইগ্রেশন করবে এ ধরনের প্রস্তুতি মানসিক আমাদের থাকে। কিন্তু কোরবানির ছুটির পর মাইগ্রেশনের পরিমাণ ২০ শতাংশের বেশি হয়। শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ছুটিতে বাড়ি গিয়ে লম্বা ছুটি কাটায়। এতে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে হয় ছোট কারখানাগুলোকে। আগেভাগে পাওনা বুঝিয়ে দিলে শ্রমিকদের অনেকেই ছুটির অপেক্ষা না করে বাড়ি চলে যাবে। এ কারণেই শেষ মুহৃর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করে মালিকপক্ষ। ’

শিল্প পুলিশের সহকারী পরিচালক সোহেল রানা বলেন, সাধারণ হিসাবে আগামীকাল ১০ সেপ্টেম্বর ঈদের আগে শেষ কার্যদিবস হওয়ার কথা। কিন্তু ঈদ এক দিন পিছিয়ে যাওয়ার কারণে অনেক কারখানা ১১ সেপ্টেম্বরও খোলা থাকবে। তিনি বলেন, ‘শেষ দিনে এসে একসঙ্গে অনেক কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধের কারণে আমাদের ওপরও চাপ সৃষ্টি হবে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাড়তি নজরদারি আরোপ করতে হবে। কিন্তু আমাদের জনবল সে তুলনায় কম। কিন্তু এর পরও আশা করছি বড় ধরনের ঝামেলা ছাড়াই শ্রমিকরা আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে। ’

চট্টগ্রামের ১৫৫টি কারখানায় শুক্রবার থেকেই ঈদের ছুটি শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা।

শিল্প পুলিশের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সব মিলিয়ে ৫০ থেকে ৫২টি কারখানায় ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে ঝামেলা হতে পারে বলে তাঁদের কাছে তথ্য ছিল। যদিও গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে তেমন আশঙ্কা সৃষ্টি হয়নি।

দেশের সরকারি আটটি ইপিজেডের সব কারখানায় শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ হয়ে গেছে বলে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীর নিশ্চিত করেছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আটটি ইপিজেডের ৪৬১টি কারখানার সাড়ে চার লাখ শ্রমিকের আগস্ট মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। শুক্রবার থেকেই অনেক কারখানায় ঈদের ছুটি হয়ে গেছে। বাকিগুলোতেও রবিবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু হবে। ’


মন্তব্য