kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক পরীক্ষা চালাল উ. কোরিয়া

বিশ্বনেতাদের হুঁশিয়ারি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক পরীক্ষা চালাল উ. কোরিয়া

পঞ্চমবারের মতো সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক বোমার ‘সফল পরীক্ষা’ চালিয়েছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গতকাল শুক্রবার এ পরীক্ষা চালানো হয় বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, জাপান, চীন, ফ্রান্স, নরওয়েসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তীব্র নিন্দা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

গতকাল উত্তর কোরিয়ার পুংগি-রি এলাকায় ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পিয়ংইয়ং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করে, এ ভূমিকম্পটি কৃত্রিম। তারা পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষা চালানোয় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যে স্থানটিতে ভূকম্পনটির উৎপত্তি, সেখানে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়ে থাকে। প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, এটাই উত্তর কোরিয়ার এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক পরীক্ষা বলে তাদের ধারণা।  

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিণতি খুব ভয়াবহ হবে বলে উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ওবামা  বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন-হাই ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। এই পরীক্ষাকে উত্তর কোরিয়ার ‘আত্মবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড’ এবং উত্তরের নেতা কিম জং উনের ‘উন্মত্ত পাগলামি’ বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট। আর জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার এই ধরনের পারমাণবিক পরীক্ষা বরদাশত করা হবে না।  

উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। উত্তর কোরিয়ার মিত্র হিসেবে পরিচিত চীনও বলেছে, তারা দৃঢ়ভাবে এ ধরনের পরীক্ষার বিরোধিতা করে আসছে। পরিস্থিতিকে আরো খারাপের দিকে নেবে এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকতে উত্তর কোরিয়ার প্রতি তারা আহ্বান জানিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা। এক বিবৃতিতে সংস্থাটির প্রধান ইয়োকি আমানো বলেন, ‘এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মহলের দাবির প্রতি সম্পূর্ণ অশ্রদ্ধা প্রদর্শন। এ কাজ গভীর উদ্বেগের এবং দুঃখজনক। ’

উত্তর কোরিয়া বলছে, তারা নতুন তৈরি একটি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালিয়েছে এবার। এর মধ্য দিয়ে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা ছোড়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উত্তর কোরিয়া এবার যে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা আগের পরীক্ষার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক মিডলবুরি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জেফ্রি লুইস বলেছেন, বিস্ফোরণের ফলে যে মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে, তাতে এটাই ছিল উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বোমার সবচেয়ে শক্তিশালী পরীক্ষা। ভূকম্পনের মাত্রা থেকে তিনি ধারণা করছেন, বিস্ফোরণটি ছিল ২০ থেকে ৩০ কিলোটনের সমতুল্য। সে ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার এই বোমা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেলা বোমার চেয়েও শক্তিশালী।  

পুংগি-রি নামের যে এলাকায় উত্তর কোরিয়া এর আগে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষাগুলো চালিয়েছিল, এবারের পরীক্ষাও হয়েছে সেই একই এলাকায়। সম্প্রতি স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে ওই এলাকার নিউক্লিয়ার সাইটে নতুন করে তৎপরতা বৃদ্ধির লক্ষণও দেখা গিয়েছিল।

গতকাল ছিল উত্তর কোরিয়ার ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, অর্থাৎ দেশটির জাতীয় দিবস। সাধারণত এ ধরনের বিশেষ দিনকেই নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য বেছে নিয়ে থাকে দেশটি। পারমাণবিক বোমা বা আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের মতো মারণাস্ত্র পরীক্ষার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গত ৬ জানুয়ারি চতুর্থ পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। এর আগে তারা ২০০৬, ২০০৯ ও ২০১৩ সালেও পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স।

 


মন্তব্য