kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রেল কর্মচারীদের জন্য ৭টি ট্রেনের ২২ বগি

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রেল কর্মচারীদের জন্য ৭টি ট্রেনের ২২ বগি

ঈদুল আজহা উপলক্ষে একটি বিশেষ ট্রেনসহ সাতটি ট্রেনে করে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি যাবে। ট্রেনগুলোর ২২টি বগি তারা নিজেদের মতো করে নিয়ে রেখেছে।

ঈদ উপলক্ষে এক মাস আগে মেরামত করা আন্তনগর ও মেইল  ট্রেনের এসব বগিতে করে বাড়ি যাওয়ার পর সেগুলো ঈদযাত্রার বিভিন্ন ট্রেনে যোগ হবে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে কারখানার ১৩০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার সদস্য বাড়ি যাচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার ও কাল শুক্রবার। একইভাবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর তারা বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম ফিরবে।

বিনা ভাড়ায় তাদের আসা-যাওয়া মিলিয়ে রেলওয়ে অন্তত ১৩ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয়বঞ্চিত হবে। তবে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য পাস রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আবদুল হাই বলেন, ‘বেআইনিভাবে কেউ যাচ্ছে না। সবাই আইনসম্মতভাবে যাচ্ছে। বছরে ছয়বার পাস নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী বা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা রেলে যাওয়া-আসা করতে পারে। এ ছাড়া আংশিকভাবে ১২ বার পারবে। পাহাড়তলী কারখানা থেকে যারা যাচ্ছে তাদের সবার পাস আছে। ’

একসঙ্গে এত কর্মচারী ও পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকৌশলী হাই বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনি সিএমইয়ের (প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী) সঙ্গে কথা বলতে পারেন। ’

সিএমইয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘একেক ট্রেনের পাসের নিয়ম একেক রকম। সাধারণত একেকটি ট্রেনের সর্বোচ্চ ৮-১০টি করে আসন পাসের ব্যবস্থা থাকে। পাসের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কোনো বগি বরাদ্দের নিয়ম নেই। ঈদ উপলক্ষে কারখানা স্পেশাল নামে ট্রেন ও বগিগুলোতে কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যায়। তারা কিভাবে যায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করতে পারেন। এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। ’

উল্লেখ্য, গত ঈদুল ফিতরেও বিনা ভাড়ায় দেড় হাজার কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি আসা-যাওয়া করেছে। এবার এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় আড়াই হাজার হয়েছে। এর মধ্যে ২৫-৩০ জন কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরে পূর্বাঞ্চল রেলের পাহাড়তলী কর্মব্যবস্থাপকের কার্যালয় থেকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কারখানা কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ট্রেনসহ অন্যান্য ট্রেনে বগি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয় প্রধান পরিবহন (সিওপিএস) দপ্তরে। চিঠি পাওয়ার পর গতকাল বিকেলে আজ ও আগামীকাল এবং ১৬ সেপ্টেম্বর কোন কোন ট্রেনে তাদের জন্য কোন শ্রেণির বগি সংযোজন হবে সেটা ঠিক করা হয়।

এ বিষয়ে অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপকের। তবে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেননি।

ওই চিঠি অনুযায়ী, ঈদের আগে আজ বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবস। কাল শুক্রবার থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানা বন্ধ থাকবে। ঈদ উপলক্ষে কারখানা কর্মচারীদের জন্য সাতটি বগি দিয়ে নোয়াখালী স্পেশাল নামে একটি বিশেষ ট্রেন আজ রাত সাড়ে ১১টায় পাহাড়তলী স্টেশন থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশে যাত্রা করবে। এ ছাড়া আজ বিকেল ৫টায় আন্তনগর চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের আন্তনগর ট্রেন মেঘনা এক্সপ্রেসে অতিরিক্ত একটি, রাত সাড়ে ১০টায় সিলেটের উদ্দেশে ছাড়া আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেসে তিনটি, রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকাগামী ঢাকা মেইলে চারটি বগি, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে ময়মনসিংহ এক্সপ্রেসে দুটি বগি যোগ হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। আগামীকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে আন্তনগর বিজয় এক্সপ্রেসে দুটি বগি, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে সাগরিকা এক্সপ্রেসে তিনটি অতিরিক্ত বগিতে করে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যাবেন। একইভাবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টায় নোয়াখালী স্টেশন থেকে নোয়াখালী স্পেশাল ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবে। এ ছাড়া ওই দিন পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মেঘনা এক্সপ্রেসে একটি, সাগরিকা এক্সপ্রেসে তিনটি, উদয়ন এক্সপ্রেসে তিনটি, ঢাকা মেইলে চারটি, ময়মনসিংহ এক্সপ্রেসে দুটি এবং বিজয় এক্সপ্রেসে দুটি অতিরিক্ত বগিতে করে তাঁরা চট্টগ্রাম ফিরবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কারো কোনো পাস নেই। সবাই বিনা ভাড়ায় যাচ্ছেন। কারখানার কয়েকজন কর্মকর্তা এবার বিনা ভাড়া নিয়ে আপত্তি তুললেও কর্মচারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে বগি আদায় করে নিয়েছেন।

পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানার কর্মব্যবস্থাপক (নির্মাণ) সাদেকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কারখানায় (বগি ও ওয়াগন) এক হজার ৫৯৭ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। নোয়াখালী স্পেশাল নামের একটি বিশেষ ট্রেনসহ বিভিন্ন ট্রেনে মোট ২২টি বগিতে প্রায় এক হজার ৩০০ আসন রয়েছে। আমরা হিসাব করে দেখেছি, এসব আসন ও দাঁড়িয়ে বগিগুলোতে প্রায় আড়াই হাজার লোক যাবে। এর মধ্যে কর্মচারীদের পরিবারের সদস্য আছে এক হাজারের বেশি। ’

বিনা টিকিটে ভ্রমণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাদেকুর রহমান বলেন, বিনা টিকিট নয়, রেলের পাস নিয়ে তাঁরা যাচ্ছেন। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি কতজনের পাস আছে।


মন্তব্য