kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চামড়ার দাম কমার ইঙ্গিত

দাম নির্ধারণে বৈঠক আজ

ফারজানা লাবনী   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চামড়ার দাম কমার ইঙ্গিত

কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণে গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে ট্যানারি মালিকদের বৈঠক হয়েছে। আজ শুক্রবার তাঁরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চামড়ার দাম কত নির্ধারণ হয়েছে তা জানাবেন।

আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়াজাত পণ্য ও প্রক্রিয়াজাত চামড়ার কম দাম, লবণের বাড়তি দাম, ট্যানারি স্থানান্তরে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ, গতবারের তুলনায় কম ব্যাংকঋণ পাওয়াসহ নানা যুক্তি দেখালেন ট্যানারির মালিকরা। এসব যুক্তি দেখিয়ে ট্যানারি মালিকরা গতবারের দামেও এবার কোরবানির পশুর চামড়া কেনা যাবে না বলে জানিয়ে দেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত ঈদের চেয়ে বেশি দামে কোরবানির পশুর চামড়া কিনলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা কাল (আজ শুক্রবার) সাংবাদিকদের চামড়ার দর জানিয়ে দেব। ’

গতকালের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ট্যানারির মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কালকে (শুক্রবার) প্রেস কফারেন্স করে ট্যানারির মালিকরা তা জানাবেন। তাঁরা দাম কমাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার সঙ্গে বৈঠকে গতবারের চেয়ে সামান্য কমে কোরবানির পশুর চামড়া কেনার বিষয়ে ট্যানারির মালিকদের রাজি করিয়েছি। ’

কোরবানির পশুর চামড়া কত দরে কিনবে তা নিয়ে গত দুই দিনে কয়েক দফা বৈঠকে বসে ট্যানারির মালিকদের বিভিন্ন সংগঠন। এসব বৈঠকে ট্যানারি মালিকরা এবার গতবারের দামে চামড়া কেনা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন। গত কোরবানির ঈদে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ঢাকায় ৫০-৫৫ টাকা, ঢাকার বাইরে ৪০-৪৫ টাকা, প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ২০-২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫-১৭ টাকা দরে কেনেন ট্যানারির মালিকরা। এরই মধ্যে ট্যানারির মালিকরা অর্থ, শিল্প, স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চামড়ার দর, পাচার রোধ, কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে ব্যাংকঋণ বিষয়ক বৈঠকেও গতবারের চেয়ে বেশি দরে চামড়া কেনা সম্ভব নয় বলে যুক্তি তুলে ধরেন।

সরকারি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে হাজারীবাগ ছেড়ে যেতে সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে নতুন কারখানা নির্মাণে ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেন ট্যানারির মালিকরা। গতবারে চামড়া কিনতে ৪০০ কোটি টাকা ব্যাংকঋণ দেওয়া হলেও এবারে গতকাল পর্যন্ত সাড়ে তিন শ কোটি টাকা পাওয়ায় ট্যানারির মালিকরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানানো হয়। গত বছর লবণ ৭০ কেজির বস্তা ৭০০-৮০০ টাকায় কিনলেও এবার ১,৪০০-১,৫০০ টাকায় কিনছেন বলেও হিসাব তুলে ধরেন তাঁরা।


মন্তব্য