kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মীর কাসেমের ফাঁসিতে মর্মাহত

ফের পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নিন্দা প্রস্তাব

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ফের পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নিন্দা প্রস্তাব

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বারবার হস্তক্ষেপের বিষয়ে বাংলাদেশের কড়া প্রতিবাদের মধ্যেই একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর ফাঁসির নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ। গতকাল বুধবার পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর সদস্য শের আকবর খান ওই প্রস্তাব আনলে জাতীয় পরিষদ তা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে।

এর আগে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল বাংলাদেশ।

গত শনিবার জামায়াত নেতা মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকরের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দেয়। এর জবাবে বাংলাদেশ ঢাকায় পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে কড়া বার্তা দেয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও পাকিস্তানের জনপ্রতিনিধিরা গতকাল ফাঁসির ব্যাপারে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

জাতীয় পরিষদে ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অপব্যাখ্যা করে পাকিস্তান জামায়াতের শের আকবর খান বলেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার ওই চুক্তির লঙ্ঘন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ অনেক আগে থেকেই পাকিস্তানকে এ ধরনের অপব্যাখ্যা না করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

পাকিস্তান জামায়াত বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে না পারায় ইসলামাবাদের সমালোচনা করে আসছে। রেডিও পাকিস্তানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের ‘বিরোধী রাজনীতিক’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁদের বিচারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফোরামে পাকিস্তান সরকারকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করাকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে অভিহিত করেছে। এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা জানায়।  

তারা বলে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখাকেই ক্রমশ কঠিন করে তুলছে পাকিস্তান। শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্য প্রতিবেশীদের জন্যও নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে দেশটি। আগামী নভেম্বরে পাকিস্তানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে অংশগ্রহণ নিয়েই ইতিমধ্যে জোর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নাজুক।

এরই মধ্যে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী আজ বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। পাকিস্তান জামায়াত বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের নিজেদের নেতা হিসেবে অভিহিত করে এর নিন্দা জানাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ বারবার বলছে, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে পাকিস্তান সরকার ও জামায়াত ১৯৭১ সালে নিজেদের গণহত্যার বিষয়টিই আরো স্পষ্ট করছে। পাকিস্তানের প্রগতিশীলরাও বলছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলে পাকিস্তান প্রমাণ করছে এই যুদ্ধাপরাধীরা তাদের দোসর ও চর ছিল।


মন্তব্য