kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফেরিঘাটের দুরবস্থায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে চরম দুর্ভোগ

শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি রুটে নাব্যতা সংকট কিছুটা কমেছে

মানিকগঞ্জ, গোয়ালন্দ, মাদারীপুর ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ফেরিঘাটের দুরবস্থায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে চরম দুর্ভোগ

ফেরিঘাটের দুরবস্থার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরির স্বাভাবিক চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে ঈদ উপলক্ষে এই পথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের অনেককে এবার বেছে নিতে হবে বিকল্প পথ।

এতে যাত্রী দুর্ভোগ ও খরচ দুই-ই আরো বাড়বে। প্রবল স্রোতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভাঙনের কারণে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেড় মাস ধরে দৌলতদিয়ার চারটি ফেরিঘাটের মধ্যে কোনোটি চালু হয় তো ভাঙনের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অন্য একটি। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

অন্যদিকে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে কোথাও কোথাও নাব্যতা সংকটের কারণে রো রো ফেরিগুলো পুরোপুরি লোড নিতে পারছে না। ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে অনেক ফেরি। ড্রেজিং চ্যানেল গতকাল বুধবার পর্যন্ত খুলে না দেওয়ায় এক কিলোমিটার এলাকা ওয়ানওয়ে বা একমুখী ফেরি চলাচল করায় পারাপারে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথের ফেরি সার্ভিস। পাটুরিয়া প্রান্তে রয়েছে পাঁচটি ঘাট এবং দৌলতদিয়া প্রান্তে রয়েছে চারটি ঘাট। স্বাভাবিক অবস্থায় রাতদিন ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ১৫টি ফেরি দিয়ে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করা হয়। বিআইডাব্লিউটিসির হিসাবে প্রতিদিন গড়ে পারাপার হয় সাড়ে চার হাজার যানবাহন। দুই ঈদের আগে ও পরে ১০ দিন এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় দ্বিগুণে। চাপ কমাতে প্রতি ঈদের আগে ও পরে মোট ছয় দিন ট্রাক পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবারও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দৌলতদিয়া প্রান্তের চারটি ঘাট দফায় দাফায় ভাঙনে পড়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় যানবাহন পারাপার অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ঈদের চাপ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত জুলাই মাসের শেষ থেকে দৌলতদিয়া প্রান্তে ভাঙনের কবলে পড়ে একটি ঘাট। এর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত চারটি ঘাটই দফায় দফায় ভাঙনে পড়েছে। মেরামত করা হলেও কোনোটির স্থায়িত্ব হয়েছে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত।

বিআইডাব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজামউদ্দিনের তথ্য মতে, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত ভাঙনে ১ নম্বর ঘাটের প্রায় ৫০০ ফুট এবং অন্যান্য ঘাটের ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, পাইলিং, জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা হয়েছে। এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। কিন্তু নদীর পানি বৃদ্ধি এবং তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।

তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ঘাট এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা করে বিআইডাব্লিউটিসি ব্যবস্থা নিতে বিআইডাব্লিউটিএকে চিঠি দিয়েছিল। সংস্কারের নামে বাঁশ আর বালুর বস্তা ফেলা হয়। ফলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অভিযোগ আছে, ঠিকাদারের মাধ্যমে এসব কাজে ব্যাপক নয়ছয় হয়েছে।

গতকাল ঘাটের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের ফলে চারটি ঘাটের মধ্য ২ ও ৩ নম্বর ঘাট বন্ধ আছে। ১ ও ৪ নম্বর ঘাটও মারাত্মক হুমকির মুখে। ‘লাইফ সাপোর্ট’ দিয়ে কোনো রকমে ওই ঘাট দুটি সচল রাখা হয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসির আরিচা সেক্টরের ডিজিএম (বাণিজ্য) শেখ মোহাম্মদ নাসিম জানান, ঈদের যানবাহন পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত ফেরি সচল আছে। বর্তমানে ১০টি রো রো (বড়), তিনটি কে-টাইপ (ছোট) ও পাঁচটি ইউটিলিটি ফেরি মিলে মোট ১৮টি ফেরি প্রস্তুত হয়ে আছে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে পরের তিন দিন এই নৌপথে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া অন্য সব ট্রাক পারাপার বন্ধ থাকবে। তিনি আরো জানান, চলাচলকারী কোনো ফেরি বিকল হলে সঙ্গে সঙ্গে তা মেরামত করার জন্য পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা ‘মধুমতি’ প্রস্তুত রয়েছে।


মন্তব্য