kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আহসানউল্লাহ মাস্টার এমপি হত্যা মামলা

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আহসানউল্লাহ মাস্টার এমপি হত্যা মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় গতকাল বুধবার প্রকাশিত হয়েছে। ১৮২ পৃষ্ঠার এ রায় গতকাল সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

বিচারপতি মো. ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৫ জুন এ রায় ঘোষণা করেন।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ায় এখন যেকোনো পক্ষই আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবে। হাইকোর্ট যাঁদের খালাস দিয়েছেন তাঁদের বিষয়ে রাষ্ট্র বা বাদীপক্ষ এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে আপিল করতে পারবেন। গত ১৫ জুন রায়ের পর আহসানউল্লাহ মাস্টারের ছেলে বর্তমান সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এ রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি তিনি। যাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আইনজীবীরাও হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছিলেন। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ায় এখন সব পক্ষের সামনে আপিল করার সুযোগ এসেছে।

নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ২২ জনের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। বিচার চলাকালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুইজন কারাগারে মারা যাওয়ায় তাঁদের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়। এ ছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ছয়জনের মধ্যে একজনের সাজা বহাল রাখেন হাইকোর্ট। চারজনকে খালাস দেওয়া হয়। আর একজন আসামি আপিল না করায় তাঁর বিষয়ে হাইকোর্ট কোনো আদেশ দেননি। সব মিলিয়ে নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ১১ জনকে খালাস দেন হাইকোর্ট। প্রায় সাড়ে ১১ বছর আগে ২০০৫ সালের এপ্রিলে এ মামলায় নিম্ন আদালত থেকে পাঠানো ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনকরণ) এবং আসামিপক্ষের করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা : বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকার, জাতীয় পার্টি নেতা নুরুল ইসলাম দিপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শহিদুল ইসলাম শিপু, কানা হাফিজ ও সোহাগ ওরফে সরু। এঁদের মধ্যে নুরুল ইসলাম দিপু শুরু থেকেই পলাতক। বাকিরা কারাবন্দি।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা : মোহাম্মদ আলী, সৈয়দ আহমেদ মজনু, আনোয়ার হোসেন আনু, রতন মিয়া ওরফে বড় মিয়া, আবু সালাম, ছোট জাহাঙ্গীর (বাবা আবুল কাশেম) ও মশিউর রহমান মিশু। এ ছাড়া যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখা হয়েছে নুরুল আমিনের। এ আটজনের মধ্যে সৈয়দ আহমেদ মজনু, আনোয়ার হোসেন আনু, ছোট জাহাঙ্গীর (বাবা আবুল কাশেম) ও মশিউর রহমান মিশু পলাতক।

খালাসপ্রাপ্তরা : নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আমির, বড় জাহাঙ্গীর (বাবা নূর হোসেন), ফয়সল, লোকমান হোসেন বুলু, রনি ফকির, খোকন ও দুলাল মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়। এ ছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রাকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু সরকার, আয়ুব আলী, জাহাঙ্গীর (বাবা মেহের আলী) ও মনিরকে খালাস দেওয়া হয়।

নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অহিদুল ইসলাম টিপু পলাতক থাকায় তিনি আপিল করেননি। এ কারণে আদালত তাঁর বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি। আইনজীবীরা বলেছেন, তিনি আপিল না করায় তাঁর সাজা বহাল রয়েছে।

হাইকোর্টে বিচার চলাকালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুইজন আল আমিন ও ছোট রতন কারাগারে মারা যাওয়ায় তাঁদের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার আমলে ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগাঁও হাই স্কুল মাঠে এক অনুষ্ঠানে আহসানউল্লাহ মাস্টার এমপিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।


মন্তব্য