kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


একনেকে সাত প্রকল্প অনুমোদন

এলেঙ্গা-রংপুর মহাসড়ক চার লেন হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এলেঙ্গা-রংপুর মহাসড়ক চার লেন হচ্ছে

সড়কপথে রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর যাতায়াতব্যবস্থা আরো সহজ করতে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সড়কটি এলেঙ্গা থেকে শুরু হয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা সদর, বগুড়া জেলা সদর, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ হয়ে রংপুরের মিঠাপুকুরে গিয়ে শেষ হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় এ ছাড়া ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

রাজধানীর শেরে বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় প্রধানমন্ত্রী সড়কের পাশে শিল্প-কারখানা ও নগরী না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সড়কের পাশে শিল্পনগরী থাকলে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হয়। সড়কের সম্প্রসারণ কাজ করাও সম্ভব হয় না। তিনি চট্টগ্রাম শহর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণেরও নির্দেশ দেন। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ-সংক্রান্ত প্রকল্প তৈরির কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘অর্থের কোনো সংকট নেই। দেশের স্বার্থে বড় বড় প্রকল্প নিয়ে অনুমোদনের জন্য নিয়ে আসুন। ’

এলেঙ্গা-রংপুর সড়ক চার লেন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ৯ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা ঋণ পাওয়ার আশা করছে সরকার। বাকি দুই হাজার ৫৪২ কোটি টাকা জোগান দেওয়া হবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে।

২০২১ সালের আগস্টে চার লেন সড়কের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। প্রকল্পটি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও দাবি পূরণ হতে চলেছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, ১৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত চার লেন সড়কটিতে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। ধীরগতিসম্পন্ন যানবাহনের জন্য থাকবে আলাদা লেন। এর মাধ্যমে কমে আসবে দুর্ঘটনা। যানজট এড়াতে নির্মাণ করা হবে আড়াই হাজার মিটার দীর্ঘ তিনটি উড়াল সেতু। দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কের মাঝে মাঝে থাকবে ৪০টি আন্ডারপাস। পথচারী পারাপারে নির্মাণ করা হবে ১১টি ওভারপাস। প্রস্তাবিত প্রকল্পে ছোট ছোট ৩২টি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত, নেপাল ও ভুটানের উপ-আঞ্চলিক সড়ক সংযোগ সহজ হবে। গতি আসবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, একনেকে ১২ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৯ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা ঋণ পাওয়া যাবে। আর রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দেওয়া হবে তিন হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব তারিক উল ইসলাম, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গতকালের একনেক সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ২০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম নগরের সিরাজউদ্দৌলা সড়ক থেকে শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক নির্মাণ, ২০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা ও রংপুর আবহাওয়া রাডারের উন্নয়ন, ২২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠা, ২১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী নির্মাণ, ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাউজান শিল্পনগরী এবং ৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা জেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে ভদ্রা ও সালতা নদী পুনঃখনন।

উদ্বেলিত রংপুরের মানুষ রংপুর অফিস জানায়, এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প গতকাল একনেকের সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় আনন্দে উদ্বেলিত রংপুরের মানুষ। এই সড়ক ঘিরে তারা আরো উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে।

রংপুর চেম্বার সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, অন্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সড়ক-মহাসড়ক আগেই চার লেনে উন্নীত হওয়ায় এখানকার মানুষও সেই স্বপ্ন দেখত। আজ তা পূর্ণ হলো। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানোসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।

প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়ে রংপুর সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি মলয় ভট্টাচার্য বলেন, এটি ছিল রংপুরসহ উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এই পথ ধরে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগ অবকাঠামোও শক্তিশালী হবে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে রংপুরের যোগাযোগ আরো সহজ হবে। এতে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে যানবাহন চলাচল বাড়বে। এ ছাড়া এটি ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে বাংলাবান্ধা দিয়ে ভারত ও নেপাল এবং বুড়িমারী দিয়ে ভারত ও ভুটানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে।

নাট্যকর্মী রাজ্জাক মুরাদ বলেন, অভাবী এলাকা হিসেবে পরিচিত রংপুরের মানুষ কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছুটে যায়। কিন্তু লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িতে চলাচল করায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণহানি ঘটে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রংপুর অঞ্চলের মানুষের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমবে। আরো নানাভাবে উপকৃত হবে এই অঞ্চলের মানুষ।


মন্তব্য