kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দোহারে পদ্মায় প্রাণ গেল ঢাবির দুই শিক্ষার্থীর

রাজশাহীতে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) ও রাজশাহী অফিস   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দোহারে পদ্মায় প্রাণ গেল ঢাবির দুই শিক্ষার্থীর

নির্ঝর

ঢাকার দোহারে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার মৈনট এলাকায় ঘাটের কাছাকাছি এলাকায় তাঁরা তলিয়ে যান।

বিকেলে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়। একই দিন রাজশাহীতে পুকুরে ডুবে মারা গেছে দুটি শিশু।

নিহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী হলেন আবরার তাজোয়ার নির্ঝর ও আহেমদ হাসান। তাঁরা দুজনই অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

নির্ঝর ঢাকার উত্তরার দক্ষিণ খান এলাকায় তাঁর খালু জায়েদ হোসেনের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন। তাঁর বাবার নাম রেজাউর রহমান জয়, গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। অন্যদিকে আহেমদ হাসান ধানমণ্ডি এলাকার ৩৬ মিরপুর রোডের বাসিন্দা আবুল হাসানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, নির্ঝর ও আহেমদ হাসানসহ তাঁরা ১৪ বন্ধু গতকাল সকাল ১১টার দিকে মৈনট এলাকায় পদ্মাপারে বেড়াতে আসেন। অন্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের আনিকা, দিনা, পলি, ঝিলিক, প্রিয়ন্তী, শাহরিয়ার, মাহবুব, সাজিদ, মাহমুদ, তাহমিদ, আনাফ ও সমাজকল্যাণ বিভাগের মোশারফ।

ওই ঘাটে দুপুরের খাবার খান তাঁরা। এরপর ২টার দিকে সবাই নদীতে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে ঘূর্ণিস্রোতে পড়ে নির্ঝর, আহেমদ হাসানসহ তিনজন তলিয়ে যান। এ সময় তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাঁদের এক মেয়ে বন্ধুকে জীবিত উদ্ধার করলেও তাঁরা দুজন নিখোঁজ থাকেন।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমীন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে ছুটে আসেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা ঘাটের কাছাকাছি এলাকা থেকে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেন। দুজনেরই বয়স ২০ থেকে ২১-এর মধ্যে।

খবর পেয়ে মৈনটে ছুটে আসে নির্ঝরের খালা, খালু এবং আহেমদ হাসানের বড় ভাই আরাফাত হাসানসহ তাঁদের স্বজনরা।

নির্ঝরের খালু জায়েদ হোসেন জানান, একেবারে শান্ত প্রকৃতির ছেলে ছিলেন নির্ঝর। ফেসবুকে ‘মিনি কক্সবাজার দোহারের মৈনট’—এমন খবর দেখে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন।

খালা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘নির্ঝরের মা বেঁচে নেই। আমি ওকে ছেলের মতো মানুষ করেছি। ওর এমন মৃত্যু দেখব, কখনো ভাবিনি। ঈদের পরেই পড়াশোনার জন্য ওর বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল। সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। ’

আহেমদ হাসানের বড় ভাই আরাফাত হাসান বলেন, ‘আমরা বিকেল ৩টার দিকে খবর পেয়েছি আমার ভাই ও তার আরেক বন্ধু গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা ঢাকা থেকে ছুটে এসেছি। এসে ভাইয়ের লাশ পেলাম। ’

আরাফাত আরো বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন ছিল আহেমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে ভালো একটা চাকরি করবে। কিন্তু এভাবে আমাদের পরিবারের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে, কোনো দিন তা ভাবতে পারিনি। ’

দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকলে দুজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমীন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, প্রতিষ্ঠান তাদের বেড়াতে আসার বিষয়ে অবগত নয়। ’ তিনি জানান, দুজনের লাশ এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের হেফাজতে আছেন। তিনি নিজে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থী ও তাঁদের দুই বন্ধুর লাশ হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ হড়গ্রাম পূর্বপাড়া এলাকায় গতকাল সকালে পানিতে ডুবে মারা গেছে দুটি শিশু। তারা হলো ওই এলাকার আবু সাইদের ছেলে কুরাইশ (বয়স সাড়ে চার) ও জহির উদ্দিনের মেয়ে বৈশাখী (৫)। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শিশু দুটির পরিবারের সদস্যরা জানায়, সকাল ৮টার দিকে বাড়ির পাশে খেলতে দেখা গেছে কুরাইশ ও বৈশাখীকে। পরে কখন যে তারা পুকুরে পড়ে যায়, তা কেউ টের পায়নি। অনেকক্ষণ দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সকাল ৯টার দিকে পুকুর থেকে তাদের ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।


মন্তব্য