kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাবা মিসরে, নিখোঁজ চার ছেলেমেয়ে

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাবা মিসরে, নিখোঁজ চার ছেলেমেয়ে

যশোর পুলিশ ১১ জঙ্গির সন্ধান চেয়ে নতুন একটি পোস্টার প্রকাশ করেছে। নাম-ঠিকানার পাশাপাশি তাদের মধ্যে ছবি রয়েছে আটজনের।

তারা সবাই হিযবুত তাহ্রীরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এই ১১ জনের মধ্যে সাতজনই যশোরের। তাদের মধ্যে চার ভাইবোন ও দুই বোনের স্বামীরা রয়েছেন। শহরের পুরাতন কসবা এলাকার এই পরিবারের কর্তা মিসরে থাকেন।

পুলিশ বলছে, বাবার উৎসাহে ছেলেমেয়েরা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে থাকতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার যশোর প্রেস ক্লাবে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, শহরের পুরাতন কসবা এলাকার মিসর প্রবাসী আব্দুল আজিজের ছেলে তানজিব ওরফে আশরাফুল হিযবুত তাহ্রীরের শীর্ষস্থানীয় নেতা। তাঁর ছোট ভাই তানজির, দুই বোন মাছুমা আক্তার ও মাকসুদা খাতুনও জঙ্গি সংগঠনটির সদস্য। এ ছাড়া মাছুমার স্বামী নাজমুল হাসান ও মাকসুদার স্বামী শাকির আহমেদ হিযবুত তাহ্রীরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

পোস্টারে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাজুমল জামালপুরের মাদারগঞ্জের মো. গিয়াসউদ্দিনের ছেলে। শাকির রাজধানীর কল্যাণপুরের ইহসান খানের ছেলে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, পুলিশ গত বছর ২০ সেপ্টেম্বর তানজিবকে আটক করে। তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। ল্যাপটপ থেকেও অনেক তথ্য পাওয়া যায়। তানজিব গত মে মাসে আইনজীবী ও একজন অধ্যক্ষের সহায়তায় জামিন পান। গত ১৩ জুন তানজিবের ভাই তানজিরকে পুলিশ আটক করে। দুই মাস আগে তিনিও জামিন পেয়ে যান।

পুলিশ সুপার জানান, পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, তাদের প্রধান প্রশিক্ষক উত্তরার মোসাব্বির। তিনি উত্তরা প্রিমিয়াম স্কুলে চাকরি করেন। এ ছাড়া কল্যাণপুরের শাকির আহমেদও একজন প্রশিক্ষক। তাঁদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তানজিবের বাবা মিসরে থাকেন। তাঁর উৎসাহে পরিবারের সবাই জঙ্গিবাদে নাম লেখাতে পারে। তাঁর সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কোনো সম্পর্ক থাকলেও থাকতে পারে। আমরা তদন্ত করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ’

এ ছাড়া পুলিশের পোস্টারে মণিরামপুরের দুর্গাপুর গ্রামের জি এম নাজিমউদ্দিন, ঢাকার আশকোনা দক্ষিণখান এলাকার হারেজ আলী, যশোরের বেড়বাড়ী গ্রামের মহিউদ্দিন, শার্শার শ্যামলাগাছি গ্রামের মেহেদী হাসানের নাম ও ছবি জঙ্গি হিসেবে ছাপা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘এই পোস্টার বাস, ট্রেনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেঁটে দেওয়া হবে। তাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। ’

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় গোলাম ফায়জুল্লাহ ফাহিমকে গ্রেপ্তারের পর জঙ্গি হামলায় হিযবুত তাহ্রীরের নাম আসে। ফাহিম রাজধানীর উত্তরার একটি কলেজের ছাত্র ছিলেন। থাকতেন দক্ষিণখান এলাকায়। ওই সময় মাদারীপুরের পুলিশ দাবি করে, ফাহিম উগ্রপন্থী মত প্রচারের কারণে নিষিদ্ধ হওয়া এই সংগঠনটির সদস্য। এই ধরনের জঙ্গি হামলার ঘটনায় হিযবুত তাহ্রীরের কোনো সদস্য আটকের ঘটনা এটাই প্রথম।

 

 


মন্তব্য