kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিহত জঙ্গি মেজর জাহিদের স্ত্রীকে খুঁজছে গোয়েন্দারা

রেজোয়ান বিশ্বাস   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নিহত জঙ্গি মেজর জাহিদের স্ত্রীকে খুঁজছে গোয়েন্দারা

জাহিদ

জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির নিহত নেতা মেজর (অব.) জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার ওরফে শিলাকে খুঁজছে গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেলেও গ্রেপ্তার সম্ভব হয়নি।

শিলার কাছে জঙ্গি সংগঠন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, শিলা জেএমবির নারী ইউনিটের সদস্য হতে পারে বলে তথ্য মিলেছে। জাহিদ নিহত হওয়ার পর শ্যামলীর একটি বাসা থেকে সরে পড়েছেন এ নারী। তাঁর বাবা মমিনুল হক ও মা জহুরা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মা-বাবা দাবি করেছেন, তাঁরা শিলার খোঁজ জানেন না।

সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে রূপনগরে পুলিশের গুলিতে জাহিদ মারা যাওয়ার পর দুই সন্তান নিয়ে শিলা আত্মগোপনে চলে যান। এর আগ পর্যন্ত শ্যামলীতে এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন তিনি। প্রাথমিক তদন্তে শিলা সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য মিলেছে। এ অবস্থায় পুলিশ গত দুই দিনে জাহিদের গ্রামের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। শিলাকে ধরতে পারলে স্বামীর কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নব্য জেএমবি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এই দম্পতি গত এপ্রিল মাস থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। এরপর পুরোদস্তুর জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে যে জঙ্গি হামলা হয়েছে তার সঙ্গে জঙ্গি নেতা তামিম সরাসরি জড়িত বলে পুলিশের দাবি। আর রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও গুলশানে জঙ্গিদের যেসব বৈঠক হয়েছে তাতে তামিমের পাশাপাশি মেজর জাহিদের উপস্থিতি ছিল বলে নানা সূত্রে জানা গেছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদ নব্য জেএমবি সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, তামিমের নেতৃত্বে নব্য জেএমবি ব্যাপক নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। বিশেষ করে ঢাকার কূটনৈতিক জোন ছাড়াও গণমাধ্যম কার্যালয়ে তাঁর নেতৃত্বে হামলার পরিকল্পনা হয়। তামিম এসব হামলার ছক করতেন মারজান ও জাহিদকে নিয়ে।

সূত্র জানায়, জাহিদ উগ্রবাদী চিন্তাধারার কারণেই সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেন। মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। এরপর চাকরি ছেড়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে কানাডাপ্রবাসী তামিম চৌধুরীর খুবই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন জাহিদ। তামিমের ডাকে দেশ ছেড়ে কানাডায় গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে দেশে ফিরে দুজন নব্য জেএমবিকে সাজাতে থাকেন। জঙ্গি নেতা তামিম নারায়ণগঞ্জে নিহত হওয়ার আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনকে এক কাতারে আনার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তামিম ও জাহিদের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও হিযবুত তাহ্রীরের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এঁদের পরিকল্পনাতেই ঢাকাসহ সারা দেশে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি হামলার ছক কষা হয়।

মামলা : রূপনগরের জঙ্গি মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় রবিবার রূপনগর থানার এসআই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, জাহিদের বাসা থেকে ৪৬ ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।


মন্তব্য