kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি তরুণী ও তাঁর সাবেক স্বামীর লাশ উদ্ধার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি তরুণী ও তাঁর সাবেক স্বামীর লাশ উদ্ধার

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাংলাদেশি এক নারী ও তাঁর সাবেক স্বামীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন তাসমিন বাহার (৩৫) ও ডেভ পিল্লাই (৪০)।

ধারণা করা হচ্ছে, তাসমিনকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন ডেভ। গত রবিবার সিডনির শহরতলি স্মিথফেল্ডে ডেভ পিল্লাইয়ের বাড়ির বাথরুম থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাঁদের তিন বছরের মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরিবারের বরাত দিয়ে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড জানিয়েছে, ছয় বছর একসঙ্গে থাকার পর কিছুদিন আগে বাংলাদেশি তরুণী তাসমিন বাহার ও ডেভ পিল্লাইয়ের বিচ্ছেদ ঘটে। এর পর মেয়েকে নিয়ে অন্য বাসায় চলে গিয়েছিলেন তাসমিন। কিন্তু বাবা দিবসে মেয়েকে তার বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দিতে সেদিন মেয়েকে নিয়ে স্মিথফেল্ডের ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন তাসমিন। রবিবার দুপুরে পিল্লাইয়ের এক আত্মীয় ওই বাড়িতে গিয়ে বাথরুমে দুজনের লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। প্রতিবেশীরা জানায়, লাশ উদ্ধারের আগে তারা শিশুকন্যাটিকে ‘মাম্মি, মাম্মি’ বলে চিৎকার করতে শুনেছে।

পুলিশ জানায়, তারা ওই দিন দুপুরে ঠিক ১২টা ৩০ মিনিটের পর মিসেস বাহার ও ডেভ পিল্লাইয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে। তাঁদের লাশ বাথরুমের ভেতরে পড়ে ছিল। তখন তাঁদের মেয়েটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। যে কক্ষের বাথরুম থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়, এক সময় সেই কক্ষটিতে তাঁরা একত্রে ঘুমাতেন।

পুলিশ আরো জানায়, তারা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আর কাউকে সন্দেহ করছে না। গোয়েন্দারা এটিকে সম্ভাব্য ‘হত্যা-আত্মহত্যা’ হিসেবে তদন্ত করছে। তবে এ বিষয়টি তারা নিশ্চিত করে, এই খুনের ঘটনায় তারা বাইরের কোনো দলকে খুঁজছে না। তবে প্রকৃতপক্ষে ভেতরে কী ঘটতে পারে, এ ব্যাপারে পুলিশ বিস্তারিত কিছু বলতে চায়নি।

সিডনি মর্নিং হেরাল্ড জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে তাসমিন ও মেয়েকে একটি ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন স্বামী পিল্লাই। এরপর মেয়েকে নিয়ে একই এলাকার অন্য একটি অ্যাপার্টমেন্টে চলে যান তাসমিন। এ ঘটনা শুনে তাসমিনের পরিবার থেকে ওই বাড়িতে আর ফিরে না যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দেয়। কিন্তু তাসমিন চেয়েছিলেন, বাবা দিবসে পিল্লাই যেন মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান।

তাসমিনের বোন শারাজিন বাহার থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। তিনি সিডনি মনিং হেরাল্ডকে বলেন, হঠাৎ এমন একটি খবর পাওয়ার পর তিনি খুব আঘাত পেয়েছেন। তিনি জানান, তাসমিনের এতিম মেয়েটিকে নিজের কাছে রাখার জন্য তিনি নিউ ইয়র্ক থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশ হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছবেন। শারাজিন বলেন, ‘আমি তাকে (বোনকে) হারিয়েছি। আমার একমাত্র চাওয়া, আমি কেবল ভাগ্নিটিকে আমার কাছে পেতে চাই। আমি তাকে আমার পাশে চাই। আমি ওর যত্ন নেব। তার জন্য যা ভালো, আমি তাই করব। ’

শারাজিন বলেন, হত্যার হুমকি দেওয়ার পর বিষয়টি পুলিশকেও জানিয়েছিল তাসমিন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে (তাসমিনকে) যেতে নিষেধ করেছিলাম। ...কিন্তু সে বাবা দিবস উপলক্ষে সেখানে গিয়েছিল। সে চেয়েছিল, ডেভ তার মেয়েকে দেখুক। ’

তাসমিনের খালাতো বোন সিফাত শারমিন রুপন্তি জানান, ডেভ পিল্লাই যে হুমকি দিচ্ছিলেন, সে কথা তাঁকেও বলেছিলেন তাসমিন। রুপন্তির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেন তাসমিন। তবে বাংলাদেশে তাঁদের ঠিকানা বা পরিবারের কোনো পরিচয় সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে প্রকাশ করা হয়নি।

জন অ্যারাকো নামে এক প্রতিবেশী সিডনি মনিং হেরাল্ডকে বলেন, মৃতদেহ দুটি পাওয়ার আগে তিনি তাঁদের মেয়েটিকে চিৎকার করতে শুনেছেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত আমার কাছে সব কিছু খুবই স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। ’ তিনি বলেন, এই দম্পতিকে তিন বছর ধরে একত্রে বসবাস করতে দেখেছেন। কিন্তু ছয় মাস আগে তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরে।


মন্তব্য