kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কেরি-ল্যাভরভ আলোচনা ব্যর্থ

সিরিয়া নিয়ে কাজ করে যেতে চান ওবামা-পুতিন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



 সিরিয়া নিয়ে কাজ করে যেতে চান ওবামা-পুতিন

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল সোমবার সিরিয়া প্রসঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকে মিলিত হন। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সময় নিয়ে কথা বলেন তাঁরা।

চীনের হাংচৌ শহরে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে ৯০ মিনিটের এই ‘গঠনমূলক’ বৈঠকে মিলিত হন তাঁরা। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোই ছিল এ আলোচনার মূল লক্ষ্য। তবে তাঁদের এ বৈঠকের আগেই বিষয়টি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয় তাঁদের।

সিরিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে যে মতপার্থক্য রয়েছে তা মেটানোর জন্যই এ আলোচনায় বসেন দুই নেতা। তাঁরা দেশটিতে ত্রাণ পৌঁছানো, সহিংসতা কমানো এবং জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো দমনে সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে কথা বলেন। চুক্তির বিষয়ে তাঁরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে  না পারলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি, তাঁদের মধ্যে যে তীব্র মতপার্থক্য ছিল তা অনেকটাই কমে এসেছে। ওই কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ভবিষ্যতেও তাঁদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ঐকমত্যে পৌঁছলে দ্রুতই চুক্তি সই করা হবে। কারণ দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি। তবে একই সঙ্গে আমাদের এও নিশ্চিত হতে হবে যে চুক্তিটি কার্যকর হচ্ছে। সে ধরনের চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে কেরি ও ল্যাভরভ একটি চুক্তি করেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যার অসারতা দৃশ্যমান হয়ে যায়। চুক্তি ভঙ্গের জন্য ওয়াশিংটন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনীকে দায়ী করে। আর এ দফায় গতকাল কোনো চুক্তিতে পৌঁছতেই ব্যর্থ হন কেরি ও ল্যাভরভ। বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই পক্ষ কোনো চুক্তিতে পৌঁছতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তবে মতপার্থক্য কী নিয়ে তা জানাননি তিনি।

দুই সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কেরি ও ল্যাভরভ সিরিয়ার যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছতে ব্যর্থ হলেন। এর আগে ২৬ আগস্ট দুই নেতা জেনেভায় মিলিত হয়েছিলেন। সেই বৈঠকও ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ‘যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তি মেনে নেবে না যা ফের ভেঙে পড়বে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন কেরি।

আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের বৈঠকের সময় কেরি ও ল্যাভরভ নিউ ইয়র্কে আবার মিলিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোন কোন বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে চুক্তিতে পৌঁছানো যাচ্ছে না তা বিস্তারিত জানাতে সম্মত হননি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

তবে রাশিয়া জোর দিয়ে বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সমর্থিত সিরিয়ার বিদ্রোহীরা আল-কায়েদার সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের সংস্রব থেকে না সরা পর্যন্ত তারা কোনো চুক্তির বিষয়ে সম্মত হবে না।

ওবামা ও পুতিনের বৈঠকে গতকাল ইউক্রেন প্রসঙ্গ নিয়েও আলোচনা হয়। বিষয়টি নিয়ে পুতিনের আগে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের সঙ্গেও কথা বলেন ওবামা। আগামী জানুয়ারিতে ওবামা ক্ষমতা ছাড়ার আগেই মিনস্ক চুক্তি কার্যকর করা সম্ভব হয় কি না এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ আরো বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন। সূত্র : রয়টার্স, সিএনএন, বিবিসি।


মন্তব্য