kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জেএমবির চার আত্মঘাতী নারী সদস্য গ্রেপ্তার

নড়াইল ও ঝিনাইদহে শিবিরের ৯ জন গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জ, নড়াইল ও ঝিনাইদহ প্রতিনিধি   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জেএমবির চার আত্মঘাতী নারী সদস্য গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জে গ্রেপ্তার জেএমবির চার নারী সদস্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিরাজগঞ্জে মা, দুই মেয়েসহ জেএমবির আত্মঘাতী দলের চার নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল সোমবার ভোররাতে কাজিপুর উপজেলার গান্ধাইল ইউনিয়নের বরইতলা গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।

এ সময় বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই ও কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়েছে। তারা আত্মঘাতী দলের সক্রিয় সদস্য এবং হাইকমান্ডের নির্দেশনা পেলেই হামলা চালাত বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে।   গ্রেপ্তারকৃতরা হলো এলাকার আবু সাঈদের স্ত্রী ফুলেরা খাতুন (৪৫). তাদের দুই মেয়ে সাকিলা খাতুন (১৮). সালমা খাতুন (১৬) এবং স্থানীয় রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাজিয়া (৩৫)।  

সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশের ওসি ওহেদুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোররাতে ডিবি পুলিশের একটি দল বরইতলা গ্রামের ফরিদুলের বাড়িতে অভিযান চালায়। তারা নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে গোপন বৈঠক করছিল। এ সময় তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। ফরিদুল জেএমবির একজন উচ্চপর্যায়ের সদস্য। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, তারা জেএমবি সদস্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিল। জেএমবির  হাইকমান্ডের নির্দেশ পেলেই তারা ফিদায়ি হামলা অর্থাৎ আত্মঘাতী হামলার উদ্দেশ্যে হিজরত করত। তারা ইতিমধ্যেই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল। নির্দেশনা পেলেই আত্মঘাতী হামলা চালাত।

এ ব্যাপারে গান্ধাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানান, গ্রেপ্তার ফুলেরা খাতুনের ছেলে জেএমবির উচ্চপর্যায়ের সদস্য। ফুলেরার স্বামী আবু সাঈদ কয়েক বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে। এই পরিবারের সদস্যের কেউ গ্রামের মানুষের সঙ্গে মিশত না। পরিবারটি যে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত তা এলাকাবাসী বুঝতে পারেনি।

সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবির নারী সদস্যরা জানিয়েছে, তারা ফিদায়ি হামলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছিল। উচ্চপর্যায়ের ঘোষণা এলেই তারা কাফির, মুশরিক, মুরতাদ, ইসলামের শত্রুদের হত্যা করে জান্নাতবাসী হতো বলে তারা মনে করে। সঠিক সময়ে তাদের আটক করার কারণে সাধারণ মানুষ হয়তো বা বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

তিনি আরো জানান, নিখোঁজ ফরিদুল ও আবু সাঈদ পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি। পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাদের খুঁজছিল। আরো তথ্য জানার জন্য আটককৃতদের ডিবি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশ গত অক্টোবর থেকে আটজন নারী জেএমবিসহ ২১ জন জেএমবি সদস্যকে আটক করে।

নড়াইল ও ঝিনাইদহে শিবিরের ৯ জন গ্রেপ্তার :  এদিকে নড়াইল জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলামসহ তিন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে নড়াইল শহরসংলগ্ন মালিবাগ থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি শাটার গান, দুই রাউন্ড গুলি, পাঁচটি ককটেল, বেশ কিছু জিহাদি বই ও সিডি উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে ঝিনাইদহে নাশকতার মামলায় জামায়াত-শিবিরের দুই নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নড়াইল পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নড়াইল সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি দল মালিবাগ মোড়ে সাইকেলে পলায়নরত তিন শিবির নেতাকে আটক করে। এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, খুলনার সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসার শিবিরের বায়তুল মাল সম্পাদক আব্দুর রহিম ও খাসিয়াল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি রিমন মোল্যা।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, নাশকতার মামলায় জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। সে সময় সদর থানা থেকে জামায়াত-শিবিরের দুই নারীসহ তিনজন এবং শৈলকুপা, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর থেকে জামায়াতের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।


মন্তব্য