kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মাদার তেরেসা সন্ত হলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মাদার তেরেসা সন্ত হলেন

ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে গতকাল রবিবার মাদার তেরেসাকে সন্ত হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন পোপ ফ্রান্সিস। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্যাটিকানে আসা হাজার হাজার মানুষ সেন্ট পিটার্সের এই ঐতিহাসিক মুহৃর্তের সাক্ষী ছিল।

আজ ৫ সেপ্টেম্বর মাদারের ১৯তম মৃত্যুদিন। এর ঠিক আগের দিন রোমে ‘বিয়েটিফিকেশন’ অনুষ্ঠানে মাদারকে ‘সন্ত’ ঘোষণা করা হয়। আগেই শান্তির জন্য নোবেল পেয়েছিলেন।

মাদার তেরেসাকে সন্ত ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা ছোঁয়া লাগে তাঁর আজীবন কর্মক্ষেত্র কলকাতায়। শহরের মাদার হাউসে প্রার্থনা হয়। সন্তায়ন অনুষ্ঠান দেখতে হাজির হয়েছিল অনেকেই। ব্যবস্থা করা হয় জায়ান্ট স্ক্রিনের।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, গত ডিসেম্বরে ভ্যাটিকান জানিয়েছিল, সন্ত হওয়ার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছেন মাদার তেরেসা। মাদারের সন্ত হওয়ার অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে আগেই রোমে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন অনুষ্ঠান শুরুর আগে হেঁটে রোম থেকে ভ্যাটিকান পৌঁছেন তিনি। এ সময় তাঁকে গাইতে শোনা যায়,  ‘আগুনের পরশমণি’, ‘মঙ্গলদীপ জ্বেলে’ গানগুলো। এ ছাড়া এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ ৫০ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল।

মাদার তেরেসার জন্মস্থান স্কোপিয়েতেও অগণিত মানুষ তাঁর সন্ত হওয়ার আনন্দে মেতে ওঠে। একই আনন্দের ছোঁয়া লাগে কলকাতায়ও। শহরের এ জে সি বোস রোডের মাদার হাউস এদিন কার্যত ফুল দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছিল। বৃষ্টির পানিতে থইথই করছে শহর। কিন্তু তাতেও যেন মাদার হাউসের রাস্তায় মানুষের ঢল দমাতে পারেনি।

জন্মসূত্রে আলবেনীয় বাবা নিকোলা এবং মা দ্রানা বোজাজিউর পাঁচ সন্তানের সর্বকনিষ্ঠ অ্যাগনেস গনজা বয়াজুর জন্ম ১৯১০ সালের ২৬ আগস্ট। ১৯২৮ সালের সেপ্টেম্বরে রাথফার্নহাম মঠের উদ্দেশে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে যাত্রা করেন। সেখানে তাঁর নাম হয় সিস্টার তেরেসা। ওই বছরের ডিসেম্বরে জাহাজে চেপে রওনা হন ভারতের লরেটো আশ্রমের দিকে। ১৯২৯ সালের ৬ জানুয়ারি কলকাতায় পৌঁছেন। সেখান থেকে দার্জিলিং। ১৯৩১ সালের ২৫ মে বিশেষ উপাসনার অনুষ্ঠানে সিস্টার টেরিজা প্রথম সন্ন্যাসব্রত নেন। ১৯৪৮ সালে লরেটো সঙ্ঘের কালো গাউন ছেড়ে নীল পাড় সাদা শাড়ি পরতে শুরু করেন তিনি। ১৯৫০ সালের ৭ অক্টোবর তৈরি হয় মিশনারিজ অব চ্যারিটি। এরপর এক লম্বা যাত্রাপথ। মাদারের উদ্যোগে একে একে তৈরি হয় ‘নির্মল হৃদয়’, ‘শিশু ভবন’, ‘প্রেমদান’, ‘দয়াদান’, কুষ্ঠ রোগীর আশ্রম। সাহায্যের জন্য ছুটে গেছেন এক দেশ থেকে অন্য দেশে। এরই স্বীকৃতিতে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ১৯৭৯ সালে।

কলকাতায় মিশনারিজ অব চ্যারিটির ১৯টি শাখা গড়ে তুলেছেন মাদার তেরেসা। সারা বিশ্বে প্রায় সাড়ে চার হাজার সন্ন্যাসী রয়েছেন তাঁর হাতে গড়া। ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ৮৭ বছর বয়সে মাদারের প্রয়াণ ঘটে।


মন্তব্য