kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

খেলাধুলা করলে যুবসমাজ থাকবে জঙ্গি-মাদকমুক্ত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



খেলাধুলা করলে যুবসমাজ থাকবে জঙ্গি-মাদকমুক্ত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের হাতে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার তুলে দেন। ছবি : বাসস

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি থেকে যুবসমাজকে মুক্ত রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের যুবসমাজকে ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখতে পারলেই কেবল সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের ভয়াবহতা থেকে তাদের মুক্ত রাখতে পারব।

গতকাল রবিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশসেরা ক্রীড়াবিদদের মধ্যে ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যুবসমাজের মাঝে শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতা এবং দেশপ্রেম সৃষ্টি করে। আমরা তাদের যত বেশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারব, তত বেশি তারা শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকবে। সুস্থ দেহ থাকলে মনও সুস্থ থাকবে। তখন আর এই মনটা এদিক-ওদিক যাবে না। ’ তিনি বলেন, ‘এখন যেমন একটা অসুস্থতা দেখা যাচ্ছে। এই যেমন—জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস বা মাদকাসক্তি এগুলো মানুষের মন-মানসিকতা এবং স্বাস্থ্য নষ্ট করে দিচ্ছে। সমাজকে কলুষিত করে দিচ্ছে। কাজেই এখন থেকে আমাদের যুবসমাজ এবং সবাইকে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেদিকে লক্ষ রেখেই আমি মনে করি আমাদের খেলাধুলার আরো বেশি সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ’

ছেলেমেয়েদের খেলাধুলায় যত বেশি সম্পৃক্ত করা যায় সেই চিন্তাভাবনা থেকে তাঁর সরকার প্রাথমিক স্কুলপর্যায়ে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব গোল্ডকাপ এবং বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ধারাবাহিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপও জয় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি অনুষ্ঠানে দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ডে ৬ এপ্রিলকে জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসেবে পালনের কথাও অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন।

২০০১ সালের পর দেশের ক্রীড়াঙ্গনে কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের ঘুষ-দুর্নীতির প্রভাব আমাদের ক্রীড়াঙ্গনেও কালোছায়া ফেলে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে সাংগঠনিক শূন্যতারও সৃষ্টি হয়। ’ তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শাসনভার গ্রহণের পরপরই ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করে। খেলাধুলার প্রসারে আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি করে। ক্রীড়া প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

সব উপজেলায় ‘মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণের কাজ চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম আমরা করে দেব। যাতে সেখানে বারো মাসই খেলাধুলা হতে পারবে। সম্পূর্ণ আলাদা মাঠ হবে। ছোট্ট একটু ব্যবস্থা থাকবে। অত বেশি গ্যালারি, বসার জায়গা থাকবে না। এমনভাবে এটা তৈরি করা হবে, যেন মানুষ চলতে-ফিরতে খেলাধুলা দেখতে পারে। মানুষের কাছে দৃশ্যমান করতে হবে। কারণ দেখার মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ জমবে। ’

খেলাধুলায় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি বিভাগে একটি করে বিকেএসপি হবে। অনুষ্ঠানে দেশের ঐতিহ্যবাহী বিলুপ্তপ্রায় খেলাগুলোর প্রতি নজর দেওয়ার তাগিদও দেন তিনি। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আবাসনসহ আন্তর্জাতিক ভেন্যু যাতে হতে পারে, সে ব্যবস্থা আমরা করে দেব। ক্রিকেটের জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম করা প্রয়োজন। পূর্বাচলে আধুনিক স্টেডিয়াম করার পরিকল্পনা আছে। ’ এ সময় কক্সবাজারে একটি ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমান সরকার রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অবস্থার যে পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছে, তার মধ্যে ক্রীড়াঙ্গনও রয়েছে। ’ ক্রীড়ার মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য ধরে রেখে আরো সামনে এগিয়ে যাওয়ায় তাঁর সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকতার উদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

দেশের স্বাধীনতা-উত্তর ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র আবাহনী ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পদক (মরণোত্তর) ২০১১, বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান ২০১২ সালে এবং ২০১১ সালে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হন। মোট ৩২ জন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে এই পদক দেওয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে বিজয়ীদের ২৫ হাজার টাকার চেক এবং স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।


মন্তব্য