kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

সম্মাননা

১১ অনন্যার কথা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



১১ অনন্যার কথা

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে গতকাল পাক্ষিক অনন্যা আয়োজিত ‘অনন্যা শীর্ষ দশ ২০১৫’ সম্মাননাপ্রাপ্তদের সঙ্গে অতিথিরা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

তাঁরা সবাই বিজয়িনী। সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে তাঁরা কাজ করেছেন; আপন ক্ষেত্রে অর্জন করেছেন সফলতা।

শুধু নিজেরাই অর্জন করেননি, সমাজ-রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করছেন তাঁরা।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ়প্রত্যয়ে এগিয়ে চলা ১১ জন নারীকে গতকাল শনিবার দেওয়া হয়েছে ‘অনন্যা শীর্ষ দশ ২০১৫’ সম্মাননা। ১০টি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়।  

সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্মাননা জানানো হয় তাঁদের। বিশিষ্ট নারীরা হলেন লুভা নাহিদ চৌধুরী (সাংগঠনিক দক্ষতা), সোনিয়া বশির কবির (প্রযুক্তি), ওয়াসফিয়া নাজরীন (পর্বতারোহণ), মালিহা এম কাদির (উদ্যোক্তা), অনিমা মুক্তি গোমেজ (সংগীত), সুপ্রীতি ধর (সাংবাদিকতা), মাবিয়া আক্তার ও মাহফুজা খাতুন (খেলাধুলা), অপর্ণা ঘোষ (চলচ্চিত্র), উম্মে তানজিলা চৌধুরী মুনিয়া (শিক্ষা) এবং সাহিদা আক্তার স্বর্ণা (সমাজকর্ম)।

কৃতী নারীদের হাতে উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন নারী আন্দোলনের তিন বিশিষ্ট নেত্রী মাহফুজা খাতুন, খুশী কবির ও ডা. দীপু মনি। পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক ও প্রকাশক তাসমিমা হোসেন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে তাসমিমা বলেন, ‘নারীদের প্রতি অনাচারের কথা নারীদেরই বলতে হবে। দাবি না তুললে, কথা না বললে সমাজ থেকে অন্ধকার দূর হবে না। ’ তিনি বলেন, ‘এখনো সময়টা নারীদের জন্য খুব অনুকূল নয়। যৌননিগ্রহ সমাজ থেকে এখনো দূর করা যায়নি। নিজেদের বঞ্চনার কথা বলতে এখনো মেয়েরা ভয় পায়। ’

সম্মাননাপ্রাপ্ত নারীরা বলেন, সমাজের বাধা পেরিয়ে নারীর অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। এখনো অনেক পথ বাকি। যারা ‘অনন্যা’ হয়েছেন তাঁদের অনুসরণ করে সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীরা ‘অনন্যা’ হয়ে উঠবেন, পিছিয়ে পড়া নারীদের আলোর পথ দেখাবেন। তাহলেই সমাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হবে।

লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, ‘কাজ করি নিজের তাগিদেই। এর জন্য সম্মাননা পাব তা আশা করিনি। সমাজে আরো অনেক যোগ্য নারী আছেন। আশা করি, তাঁদেরও সম্মানিত করা হবে। ’

সোনিয়া বশির কবির বলেন, ‘আমার ক্ষেত্র প্রযুক্তি। এই ক্ষেত্রে এখনো পুরুষের প্রাধান্য বিদ্যমান। আশা করি, আরো অনেক নারী এই ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবেন। ’

অনিমা মুক্তি গোমেজ বলেন, ‘একসময় লোকসংগীত শিল্পীদের কিছুটা হেয় চোখে দেখা হতো। এখন অবস্থা পরিবর্তিত হয়েছে। মানুষের সার্বিক পরিবর্তন ছাড়া সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। ’

অপর্ণা ঘোষ বলেন, ‘আমি নারী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেই কাজ করে যেতে চাই। নারীদের যত দিন না মানুষ হিসেবে দেখা হবে, তত দিন সমাজ পিছিয়ে থাকবে। রাষ্ট্রও পিছিয়ে থাকবে। ’

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী উম্মে তানজিলা চৌধুরী মুুনিয়া বলেন, ‘যৌন হয়রানির সবচেয়ে বেশি শিকার হন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীরা। প্রতিবন্ধীদের সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমি কাজ করছি। তাঁরা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করাই আমার জীবনের লক্ষ্য। ’

সাহিদা আক্তার স্বর্ণা বলেন, ‘আমি চাই, বাংলাদেশে হাজার হাজার স্বর্ণা-মালালা তৈরি হোক। শিক্ষার আলো পৌঁছাতে, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সবার আগে নারীকেই এগিয়ে আসতে হবে। ’

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সম্মাননা পাওয়া নারীদের নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তাতে বিজয়ী নারীদের জীবনের গল্প চিত্রায়িত হয়েছে।

আরো ছিল সাধনা নিবেদিত নৃত্যানুষ্ঠান এবং ভাবনগর পরিবেশিত চর্যাপদের গান। অনুষ্ঠানে লোকসংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী অনিমা মুক্তি গোমেজ।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সাল থেকে অনন্যা শীর্ষ দশ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছর নিজ নিজ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য নারীদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।


মন্তব্য