kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে চীন ও  যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন

চীনের হেংচৌ শহরে ওয়েস্ট লেক স্টেট গেস্টহাউসে বৈঠক চলাকালে করমর্দন করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। ছবি : এএফপি

প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। গতকাল শনিবার দেশ দুটি চুক্তিটি অনুমোদন করে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘এটি সেই মুহূর্ত, শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের গ্রহকে বাঁচাতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’

বিশ্বের দূষণকারী বৃহত্তম দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এই অনুমোদন ১৮০টি দেশের প্যারিস জলবায়ু চুক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চুক্তিটিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ এবং দরিদ্র দেশগুলোকে দুর্যোগ মোকাবিলায় কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার প্রদানের মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

গতকাল সকালে চীনা পার্লামেন্ট ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস প্যারিস চুক্তি অনুমোদনের পক্ষে ভোট দেয়। একই দিন সকালে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে চুক্তিটি অনুমোদনের ঘোষণা দেয়। গতকাল চীনের হাংঝু নগরীতে দুটি দেশের চুক্তি অনুস্বাক্ষরের ঘোষণা উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় দুটি দেশের অনুস্বাক্ষরের নথিপত্র জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান শতাব্দীর গতিপথ কেমন হবে তা অন্যান্য যেকোনো চ্যালেঞ্জের চেয়ে অনেক বেশি নাটকীয়ভাবে নির্ধারণ করবে। ’ তিনি বলেন, ‘‘ইতিহাস বলবে প্যারিস চুক্তি শেষ পর্যন্ত একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ হিসেবে প্রমাণিত হবে। এটি সেই মুহূর্ত, শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের গ্রহকে বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’’

অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বলেন, তাঁর দেশ এই চুক্তির প্রতি আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হাংঝুতে জি ২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চিনপিং বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে একই পদক্ষেপ নিতে অন্যান্য দেশকেও উৎসাহিত করবে। ’

অনুষ্ঠানে বান কি মুন বলেন, চলতি মাসের শেষের দিকে চুক্তিটির অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করা হবে। তিনি ওবামা ও চিনপিংকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘প্যারিস চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়ে আপনারা এই চুক্তিটিকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে জোরালো গতিবেগ সঞ্চার করেছেন। ’ তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে আমরা চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই তা করতে পারব। ’

প্যারিস চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে সম্ভব হলে প্রাক-শিল্পায়নের পর্যায়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রিতে আনার কথা বলা হয়। চীন এককভাবে প্রায় ২৫ শতাংশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দ্বিতীয়। তারা প্রায় ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। এ কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের ৫৫ শতাংশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী অন্তত ৫৫টি দেশ চুক্তিটি অনুমোদন করলেই কেবল তা আইনে পরিণত হবে। ৫৫টি দেশ অনুমোদন দেওয়ার ৩০ দিন পর প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন হবে। ইতিমধ্যে ২৩টি দেশ এর অনুমোদন দিয়েছে। ফ্রান্স ও বিভিন্ন দ্বীপ রাষ্ট্র এগুলোর মধ্যে রয়েছে। অতএব এ দেশগুলো সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের মতো অনেক প্রভাবশালী দেশ এখনো চুক্তিটির অনুমোদন করেনি। আশা করা হচ্ছে, জি ২০ শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এই ঘোষণা সম্মেলনে অংশ নেওয়া অন্যান্য দেশগুলোর ওপর চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য চাপ তৈরি করবে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য