kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১০ টাকা কেজি চাল পাবে দেশের ৫০ লাখ পরিবার

৭ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



১০ টাকা কেজি চাল পাবে দেশের ৫০ লাখ পরিবার

১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। পল্লী রেশন ডিলারদের মাধ্যমে কার্ডধারীদের মধ্যে মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করা হবে।

সারা দেশে ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবার পাঁচ মাসের জন্য এ কর্মসূচির সুফল পাবে। এ জন্য নেওয়া হয়েছে ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘হতদরিদ্রদের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের চিলমারীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, স্থানীয় জনপ্রতিধিদের মাধ্যমে সারা দেশে ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবার নির্বাচন করে কার্ড বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছরে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এবং আগামী বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে নির্ধারিত ডিলারদের কাছ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি চাল কিনতে পারবেন কার্ডধারীরা। ধান লাগানো ও ধান কাটার মধ্যবর্তী সময়ে যখন দিনমজুরদের হাতে কাজ থাকে না তখনই এ কর্মসূচির সুফল পাবে পরিবারগুলো। প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম থেকেই যুগান্তকারী খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। এ জন্য সার্বিক প্রস্তুতি চলছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলায় মোট এক লাখ ২৫ হাজার ২৭৯টি পরিবার খাদ্যবান্ধব কার্ডের মাধ্যমে সরকারের সৃজনশীল এ কর্মসূচির সুফল পাবে। এরই মধ্যে চিলমারী উপজেলার আট হাজার ২১টি দরিদ্র পরিবারকে এ কার্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সদরে ১৭ হাজার ৭২২, নাগেশ্বরীতে ২৪ হাজার ২০, ভূরুঙ্গামারীতে ১৩ হাজার ৯৮৫, ফুলবাড়ীতে ৯ হাজার ২৯৮, রাজারহাটে ১০ হাজার ৬০২, উলিপুরে ২৪ হাজার ২০৮, রৌমারীতে ১২ হাজার ৬৮৫ ও রাজীবপুর উপজেলায় চার হাজার ৭৩৮টি কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়াধীন। চাল বিক্রির জন্য জেলায় ২৪৭ জন সম্ভাব্য ডিলারের মধ্যে ১২৬ জনকে ইতিমধ্যে নিযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর চিলমারী সফরকে কেন্দ্র করে চলছে নানা প্রস্তুতি। চিলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুতি চলছে। এলাকার মানুষের কিছু দাবিও উত্থাপন করা হবে। ঐতিহাসিক চিলমারী বন্দরটি আবার চালু এবং নৌ ও রেল যোগাযোগসংক্রান্ত দাবি তুলে ধরা হবে।

রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ নলেজ বলেন, ‘দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর নকশায় রেলপথ যুক্ত করলে ঢাকার সঙ্গে ২০০ কিলোমিটার দূরত্ব কমবে। ট্রেন লাইন চালুর এ দাবি ছাড়াও চিলমারী থেকে আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস চালু এবং চিলমারী বন্দর বাস্তবায়ন বিষয়ে দাবি রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. জাফর আলী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম থেকেই ন্যাশনাল সার্ভিস চালু করেছিলেন। এটা কুড়িগ্রামের প্রতি তাঁর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।


মন্তব্য