kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে একযোগে সমাবেশ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে একযোগে সমাবেশ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গতকাল ক্যাম্পাসে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল-সমাবেশ করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঐক্যবদ্ধ হয়েছে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে। গতকাল শনিবার সকালে একযোগে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশ করেছে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, কমিউনিটি লিডার, ইমামসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ নেয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনার আয়োজন করে মন্ত্রণালয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট একযোগে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর গতকাল সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হলো জঙ্গিবাদবিরোধী সভা ও সমাবেশ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তিন দফা নির্দেশনা নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা হয়। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি করতে করণীয় নিয়ে মতামত দেন বক্তারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের ওপরও তাগিদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া অনুষ্ঠান আয়োজন, স্কাউটিং ও গার্ল গাইডস কার্যক্রম বৃদ্ধি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ কোনো দিন স্থায়ী ভিত্তি গড়তে পারবে না। জঙ্গিরা শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে ফুসলিয়ে বিভ্রান্ত করে বোমা মারাচ্ছে। মানুষকে হত্যা করছে, শিক্ষকদের বিপথগামী করছে। তবে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে জঙ্গিরা শিক্ষার্থীদের বিপথগামী করতে পারবে না। ’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম হবে আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা। তাদেরকে বিশ্বমানের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে জঙ্গিরা কখনো ঠাঁই পেতে পারে না। জঙ্গিবাদকে সমূলে নির্মূল করতে হলে মদদদাতাদের অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকসহ দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণকে এগিয়ে আসতে হবে। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন, ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে জঙ্গিবাদবিরোধী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে জঙ্গিবাদবিরোধী আলোচনায় বক্তারা সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দেন। এতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাপতি এ এস মাহমুদ, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফাদার বেঞ্জামিন ডি কোস্তা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আলোচনায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে খুব দ্রুতই জঙ্গিবাদ নিশ্চিহ্ন করা হবে। আমরা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভ করতে দেব না। এ জন্য আমাদের জঙ্গিবাদবিরোধী চেতনাকে জাগাতে হবে। ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠেছে। কারণ এ দেশের মানুষ উগ্রবাদ পছন্দ করে না। ’

মোহাম্মদপুরে লালমাটিয়া মহিলা কলেজ ও রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ আয়োজিত পৃথক জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতে কোনো শিক্ষার্থী জঙ্গি বা সন্ত্রাসী না হয় সে জন্য শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কলেজ দুটির সভায় সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম ও অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল হান্নান। বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, উপপুলিশ কমিশনার বিল্পব কুমার সরকার প্রমুখ।

ঢাকা সেনানিবাসস্থ শহীদ বীর-উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজের অডিটরিয়ামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী সভায় জঙ্গিবাদের বিষবাষ্প প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত ওই সভায় কলেজের ছাত্রী প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি, ধর্মীয় শিক্ষক, অভিভাবক প্রতিনিধি ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল মো. রাশিদুল ইসলাম খান।

আইএসপিআর জানায়, এর আগে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রুখতে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো শহীদ বীর-উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষগণ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিগত ১৩ আগস্ট এক ঘণ্টার মানববন্ধন করেন। এ সময় সবার কণ্ঠে ছিল ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে নিন্দা’। জঙ্গিবাদবিরোধী ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড অত্র প্রতিষ্ঠান সর্বদা পালন করে থাকে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

এ ছাড়া অন্যান্য পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পৃথকভাবে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশের আয়োজন করে। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, আশা বিশ্ববিদ্যালয়, রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


মন্তব্য