kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কোটি টাকার জাল নোটসহ চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কোটি টাকার জাল নোটসহ চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর পল্টন ও লালবাগে অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরি চক্রের গ্রেপ্তারকৃতরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদ সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল টাকার কারবারিরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর পল্টন ও লালবাগ থেকে নারীসহ চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে এক কোটি ১৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ও আট হাজার ভারতীয় রুপি জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলো জালিয়াতচক্রের মূল হোতা রেজাউল ইসলাম মুন্না, আবদুল কাদের অপু, লতিফ, ফজর আলী, মহরম মিয়া, সুমি বেগম, আবদুল বারেক, সাদ্দাম, আলম মিয়া ও আলমগীর।

গতকাল শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন উৎসব সামনে রেখে গ্রেপ্তারকৃতরা জাল নোট প্রস্তুত ও বিপণন করে থাকে। পশুর হাটকে সামনে রেখে তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। তারা পেশাদার জাল টাকা প্রস্তুতকারী ও বিক্রেতা। প্রায় সাত-আট বছর ধরে চক্রটি এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা স্বল্প মেয়াদে বাসা ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজেরা দেশি-বিদেশি জাল নোট তৈরি করে। পরে এসব জাল নোট পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে থাকে। ’

মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, জাল নোট প্রস্তুত থেকে খুচরা পর্যায়ে বিতরণ পর্যন্ত তারা বিভিন্ন স্তর অবলম্বন করে এবং প্রতিটি স্তরেই রয়েছে মহিলা সদস্যসহ একাধিক সিন্ডিকেট। ইতিমধ্যে চক্রটি দুই-তিন কোটি টাকা বাজারে ছেড়েছে বলে জানা গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তিন-চারটি চক্রের তথ্য পাওয়া গেছে। এদের টার্গেট ছিল ১০ কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়া। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কেউ এ চক্রের সঙ্গে যুক্ত আছে কি না তা যাচাই করে হচ্ছে। গরুর হাটসহ বড় বড় মার্কেটের সামনে জাল টাকা শনাক্তের মেশিন রয়েছে।

২১ জনের সাজা : সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আলাদাভাবে অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান ও মলম পার্টির ২১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চেতনানাশক ট্যাবলেট, হালুয়ার কৌটা, আচার, ভেষজ চিকিৎসার বই উদ্ধার করা হয়। পরে আটককৃতদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মশিউর রহমান।

সাজাপ্রাপ্তরা হলো  রাজিব বণিক, আবদুর রউফ শেখ, আওলাদ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, বাবুল হোসেন, আজিম, সুজন, আবু সিদ্দিক দেলু, লিটন মিয়া, সাগর, আকাশ, সুলতান বাদশা, রিপন, রুবেল মিয়া, জীবন, পলাশ মোল্লা, আবদুল মান্নান, সুমন মিয়া, রফিকুল ইসলাম, ইদ্রিস সিকদার ও মাসুদ শেখ।

মনিরুল ইসলাম বলেন, দণ্ডিতরা বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসে নিজেরা যাত্রীবেশে ভ্রমণ করে এবং যাত্রীদের অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট করে। এ ছাড়া সেডিল, ইপিটরা, ট্রাপটিন, ডরমিকাম জাতীয় ঘুমের ওষুধ পানির সঙ্গে মিশিয়ে ছোট কৌটার ভেতরে সংরক্ষণ করে নিজেদের কাছে রেখে দেয়। কৌশলে চা-কফি, ডাব ও কোমল পানীয় ইত্যাদির সঙ্গে মিশিয়ে যাত্রীদের খাইয়ে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নেয়। অধিক মাত্রায় চেতনানাশক ওষুধে অনেকে মারাও যাচ্ছে।


মন্তব্য