kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বগুড়ায় হত্যার পর মুখ পুড়িয়ে দেওয়া হলো

চট্টগ্রামে ভাইয়ের ছুরিতে যুবক খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া ও চট্টগ্রাম   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বগুড়ায় হত্যার পর মুখ পুড়িয়ে দেওয়া হলো

বগুড়ায় ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের এক তত্ত্বাবধায়ককে হত্যার পর মুখ আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই কর্মকর্তার নাম রেজাউল করিম (৩৫)।

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের পোতা গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে পোড়া লাশটি উদ্ধার করে। এদিকে চট্টগ্রামের পটিয়ায় বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বগুড়ায় নিহত রেজাউল বগুড়া সদর উপজেলার বামনপাড়া গ্রামের মৃত হাফিজার রহমানের ছেলে। তিনি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ হন।

রেজাউলের নিকটাত্মীয় আব্দুল গফুর জানান, নন্দীগ্রাম উপজেলা বিআরডিবি (বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড) কার্যালয়ের সহকারী গ্রাম উন্নয়ন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানকে বেশ কিছুদিন আগে রেজাউল তাঁর গ্রামের এক যুবকের চাকরির জন্য সাড়ে ছয় লাখ টাকা দিয়েছিলেন। পরে ওই যুবকের চাকরি হয়নি। কিন্তু টাকাও ফেরত দেননি জিল্লুর। টাকা দিতে তিনি টালবাহানা করে আসছেন। এ কারণে বৃহস্পতিবার দুপুরে রেজাউল টাকা চাইতে নন্দীগ্রাম যান। এরপর মোবাইল ফোনে বাড়িতে জানান যে তাঁর ফিরতে দেরি হবে। এর পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। গতকাল দুপুরে গ্রামের লোকজন রাস্তার পাশে পোড়ানো লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে হত্যার পর চেহারা যাতে না চেনা যায় সে জন্য আগুন দিয়ে মুখ নৃশংসভাবে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তার পরও লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ রেজাউলের সঙ্গে থাকা কাগজপত্র থেকে তাঁর পরিচয় উদ্ধার করে।

ওসি আরো জানান, ঘটনার পর থেকে বিআরডিবি কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান পলাতক। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধেই রেজাউল খুন হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পূর্ব হাইদগাঁও এলাকায় স্ত্রীকে মারধরে বাধা দেওয়ায় বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে আজগর আলী (২৬) নামের একটি যুুবককে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল ভোরে এ ঘটনার পর থেকে বড় ভাই লিয়াকত আলী পলাতক।

পরিবারের বরাত দিয়ে পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হেসেন বলেন, লিয়াকত নেশা করে ভোর রাতে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে মারধর শুরু করে। তখন তাকে বাধা দিতে যান ছোট ভাই আজগর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লিয়াকত ছুরি দিয়ে আজগরের পেটে আঘাত করে। বাধা দিতে গিয়ে তাদের ছোট ভাই আকবরও আহত হন।

এসআই মোশারফ জানান, গুরুতর অবস্থায় আজগরকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরো জানান, লিয়াকত আগে বিদেশে থাকলেও এ বছরের শুরুতে দেশে ফেরে। প্রায়ই মাতাল হয়ে বাড়ি ফিরত বলে এ নিয়ে পরিবারে অশান্তি চলছিল।


মন্তব্য