kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জিকার নতুন ‘আবাস’ এশিয়া ও আফ্রিকা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জিকার নতুন ‘আবাস’ এশিয়া ও আফ্রিকা

জিকা ভাইরাসের নতুন আবাস গড়ে উঠছে এশিয়া, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। ফলে এ অঞ্চলের অন্তত ২৬০ কোটি মানুষ জিকা ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

মূলত জিকা ভাইরাসের বংশবিস্তার ও ছড়িয়ে পড়ার মতো উপযোগী আবহাওয়া এবং বাহক মশার প্রাচুর্যের কারণে এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দ্য ল্যানসেট ইনফেকশাস ডিজিজেস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা এ আশঙ্কার কথা জানান। বিজ্ঞানীদের মতে, স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক উপকরণ সীমিত থাকার কারণে বাংলাদেশও এই ঝুঁকিতে রয়েছে।

গবেষকরা বলেন, জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় মস্তিষ্কের। এতে গর্ভস্থ শিশুরা থাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে। মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে নবজাতক শিশুরা অস্বাভাবিক ছোট মাথা ও মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মায়। বড়দের মস্তিষ্কও এতে আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে জিবিএস নামের একটি রোগে আক্রান্ত হতে পারে প্রাপ্তবয়স্করা, যাতে পক্ষাঘাতগ্রস্ততা, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

গবেষকরা জানান, গবেষণায় জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার যে ভৌগোলিক সীমানা ধরা হয়েছে, তার মধ্যে শুধু ভারতেই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ১২০ কোটি মানুষ। এ ছাড়া এই ঝুঁকিতে আছে চীনে ২৪ কোটি দুই লাখ, ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ কোটি ৭০ লাখ, নাইজেরিয়ায় ১৭ কোটি ৯ লাখ ও পাকিস্তানে ১৬ কোটি ৮০ লাখ মানুষ।

গত বছর ব্রাজিলে জিকা ভাইরাসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তখন দেশটিতে ১৫ লাখ মানুষ জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে এক হাজার ৬০০ শিশু অস্বাভাবিক ছোট মাথা ও মস্তিষ্ক নিয়ে জন্ম নেয়। পরে তা লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলো, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে বিশ্বের ৭০টি দেশে জিকা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে মানুষের যাতায়াত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জিকাকবলিত দেশ ভ্রমণ করে আসার পরই আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে জিকার ঝুঁকি নির্ধারণ করে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও কানাডার টরন্টো ইউনিভার্সিটির গবেষক দলটি। দক্ষিণ আমেরিকার জিকাকবলিত এলাকা ভ্রমণের পর সেখান থেকে আফ্রিকা ও এশিয়ায় ফিরে আসা মানুষের সংখ্যা, জিকা ছড়াতে সক্ষমতা রয়েছে এমন মশার উপস্থিতির হার এবং জিকার প্রাদুর্ভাব হওয়ার মতো আবহাওয়া রয়েছে কি না তা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

গবেষকদের মতে, স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক জিনিসপত্র সীমিত থাকার কারণে বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানেও জিকা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাঁদের মতে, জিকা ভাইরাস প্রতিরোধ ও শনাক্ত করা কিংবা মোকাবিলা করা কঠিন এমন পরিবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করছে। অবশ্য কিছু জায়গায় জিকা মোকাবিলার প্রস্তুতি থাকায় সেখানে ঝুঁকির মাত্রা কমে এসেছে বলে স্বীকার করেছেন গবেষকরা।

এডিস প্রজাতির মশা থেকে জিকা ভাইরাস মানুষের দেহে ছড়িয়ে থাকে। জ্বর, জয়েন্ট পেইনসহ ছোটখাটো কিছু শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় এ ভাইরাসের কারণে। আবার তা এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে সেরেও যায়। তবে বিপত্তি তৈরি হয় গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে।

গত বছর ব্রাজিলে মাইক্রোসেফালি বা অস্বাভাবিক আকৃতির মাথা নিয়ে শিশু জন্মানোর পরই তা জিকা ভাইরাস বলে সন্দেহ করা হয়। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞ গবেষণার পর গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জিকা ভাইরাস থেকে যে মাইক্রোসেফালি হতে পারে সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত। এর আগে যৌন মিলনের মাধ্যমে জিকা ভাইরাস ছড়ানোর কথাও নিশ্চিত করেছিলেন তাঁরা। তবে যৌন মিলনের মাধ্যমে জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার হার খুব কম বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র : এএফপি ও বিবিসি।


মন্তব্য