kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

ইতিহাসের দুই অজনপ্রিয় প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ইতিহাসের দুই অজনপ্রিয় প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্প্রতিক ইতিহাসে এত অজনপ্রিয় প্রার্থী আর দেখা যায়নি! পরিস্থিতি যেন এমন যে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে কে বেশি অজনপ্রিয় জরিপ করা হচ্ছে তা নিয়েই। কারণ দুই প্রার্থীরই জনপ্রিয়তার চেয়ে উল্টো দিকে ভোটারদের আগ্রহ বেশি।

এ সপ্তাহে হিলারির অজনপ্রিয়তার হার ৫৬ শতাংশ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্পের ৬৩ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মন্তব্য, এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের মতো ভিন্ন ধারার, আলগা মুখের প্রার্থী না থাকলে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অজনপ্রিয়তার হার কোথায় গিয়ে ঠেকত তা বলা কঠিন। সে হিসাবে  হিলারিকে বরং বাঁচিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।

ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় কনভেনশনের পর হিলারির জনপ্রিয়তা বেলুনের মতো ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্পের তুলনায় দুই অঙ্কের সংখ্যায় এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে গত সপ্তাহে তাঁর ই-মেইল এবং ক্লিনটন ফাউন্ডেশন-সংক্রান্ত নতুন কিছু তথ্য প্রকাশের পর বেলুনে যেন সুচের খোঁচা পড়ে। হু হু করে নামতে শুরু করে তাঁর জনপ্রিয়তার পারদ। এ সপ্তাহে পরিচালিত ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি নিউজের জরিপে দেখা যায়, হিলারিকে সমর্থন করছে ৪১ শতাংশ আমেরিকান। বিপরীতে তাঁকে পছন্দ করে না ৫৬ শতাংশ, যা এ যাবৎ কালের সর্বোচ্চ। শুধু প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নয়, হিলারির গত সিকি শতাব্দীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারেও এর আগে এতটা পতন দেখা যায়নি। এমনকি তাঁকে পছন্দ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবেই ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক—এমন ব্যক্তিদের মধ্যেও হিলারির সমর্থন পড়তির দিকে। গত আগস্ট থেকে নারী ভোটারদের মধ্যে হিলারির জনপ্রিয়তা ৫৪ শতাংশ থেকে নেম ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। হিস্পানিকদের মধ্যে ৭১ শতাংশ থেকে কমে ৫৫ শতাংশ এবং উদারপন্থীদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ থেকে কমে ৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অথচ ২০১৩ সালে হিলারি যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে বিদায় নেন তখনো তিনি তুমুল জনপ্রিয়। সরকারি কাজে নিজের ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করার বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে সংকট শুরু হয়। এই এক কেলেঙ্কারি হিলারিকে টেনে নামিয়েছে অনেক দূর।

বিপরীতে ট্রাম্পের নেতিবাচক রেটিং দেখা যায় তাঁর প্রচারের শুরু থেকেই। খই ফোটার মতো করে ফুটতে থাকা নানা অযৌক্তিক কথা তাঁকে যেমন আলোচিত করেছে, তেমনি সমালোচিতও কম করেনি। ফলে ট্রাম্পের সমর্থন ও অসমর্থন পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। তিনি অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দিতে চান, মেক্সিকোর সঙ্গে দেয়াল তুলতে চান, বিশ্বাস করেন—মুসলমান মাত্রই সন্ত্রাসী এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রে জায়গা দিতে আগ্রহী নন তিনি। এই কট্টরপন্থার কারণেই জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পকে সমর্থন করেছে ৩৫ শতাংশ ভোটার। আর ট্রাম্প পছন্দের নন ৬৩ শতাংশের। সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট।


মন্তব্য