kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জিকা বিষয়ে ‘স্বাস্থ্য সতর্কতা’ জারি

তৌফিক মারুফ   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জিকা বিষয়ে ‘স্বাস্থ্য সতর্কতা’ জারি

জিকা ভাইরাসে সর্বশেষ আক্রান্ত দেশ সিঙ্গাপুর। সেখান থেকে যারা দেশে ফিরছে তাদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ ‘স্বাস্থ্য সতর্কতা’ জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ।

সতর্কতা জারির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা আবার চালু করা হয়েছে।

সিঙ্গাপুরে জিকায় আক্রান্ত বিভিন্ন দেশের ১১৫ জনের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি রয়েছে—এ খবর পাওয়ার পর তৎপর হয়ে ওঠে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

শাহজালালে স্থাপিত বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্প সিঙ্গাপুর থেকে আসা যাত্রীদের নাম-ঠিকানা ও শারীরিক অবস্থার তথ্য সংরক্ষণ শুরু করেছে গতকাল। স্ক্যানিং সিস্টেমকে আরো জোরদার করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের সমন্বিত বিশেষ টিম গতকাল সকালে বিমানবন্দরে হেলথ মনিটরিং সিস্টেম পর্যবেক্ষণ করে। পরে তারা আইইডিসিআরে বৈঠক করে জাতীয়ভাবে আরো কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয় নিয়ে।

সিঙ্গাপুরে জিকায় আক্রান্ত কোনো বাংলাদেশিকে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জিকা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জিকা ভাইরাস শনাক্ত করতে সিঙ্গাপুর থেকে যারা দেশে আসছে, তাদের সবাইকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষা না করে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, ‘জিকা নিয়ন্ত্রণে আগে থেকেই আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আগের তালিকাভুক্ত দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে সর্তকতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এবারও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে আসা সব যাত্রীকে আমরা পর্যবেক্ষণে রাখব। কারণ অনেকের শরীরে তাৎক্ষণিক কোনো উপসর্গ বা লক্ষ্মণ না-ও থাকতে পারে। জীবাণু থেকে থাকলে পরে এর প্রকাশ ঘটতে পারে। ’

ডা. খায়ের জানান, ফিরে আসা কারো শরীরে জিকা ভাইরাস শনাক্ত হলে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা করা রয়েছে। যে ১০ জন সিঙ্গপুরে জিকায় আক্রান্ত হয়েছে, তাদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে না। এটা আন্তর্জাতিক প্রটোকলেই আছে। তাদের চিকিৎসা দিচ্ছে সে দেশের সরকার।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুর দিকে ২৩টি দেশে মশকবাহিত জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উৎকণ্ঠায় পড়েছিল বাংলাদেশ। তখন দেশে বা প্রবাসে কোনো বাংলাদেশি জিকায় আক্রান্ত না হলেও সর্তকতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। গত মার্চে চট্টগ্রামে জিকায় আক্রান্ত একজনকে শনাক্ত করা হয়। চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়েছেন। এরপর জিকা ইস্যু অনেকটাই চাপা পড়ে যায়। কয়েকটি বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে বসানো বিশেষ স্ক্যানার পড়ে আছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে বসানো তিনটি স্ক্যানারের একটি অনেক দিন ধরে নষ্ট। দুটি সচল রয়েছে। এগুলো দিয়ে সব যাত্রীকে স্ক্যান করা সময়সাপেক্ষ। অন্যদিকে জিকা নিয়ে যে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছিল তাও থেমে গেছে।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. স্যাবরিনা ফ্লোরা বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের ঘটনা জানার পর আমরা বৈঠক করেছি। আগেই অনেক কাজ সেরে রাখা ছিল। আমাদের বিশেষজ্ঞ টিম জিকা শনাক্ত করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ’

জিকা সংক্রমণ আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহামুদুর রহমান বলেন, জিকা আর ডেঙ্গুর বাহক একই হওয়ায় বাংলাদেশে এক ধরনের ভীতি তৈরি হতে পারে। কারণ দেশে এডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গুর প্রকোপ রয়েছে। জিকা এবং ডেঙ্গুর ধরনও এক।

ড. মাহামুদ বলেন, জিকার সংক্রমণ সঙ্গে সঙ্গে ধরা মুশকিল। এটা মানুষের শরীরে দীর্ঘদিন ধরে সংক্রমিত হয়। ৮০ শতাংশের ক্ষেত্রেই এটাকে সময়মতো ধরা যায় না। তবে এর কারণে জ্বর হয়ে থাকলে পরীক্ষায় ধরা পড়ে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু আর জিকার মধ্যে পার্থক্য হলো ডেঙ্গুতে মৃত্যু ঘটলেও জিকায় মৃত্যুর ভয় নেই। বেশি ভয় নারীদের গর্ভের সন্তান নিয়ে। জিকায় আক্রান্ত নারীর সন্তানের মাথা ছোট হয়, বিকলাঙ্গও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, জিকায় আক্রান্ত হলে সাধারণত জ্বর, লালচে র‌্যাশ, শরীরের গিঁটে গিঁটে ব্যথা, চোখ লাল হওয়া—এসব লক্ষ্মণ দেখা দেয়। তবে আক্রান্ত গর্ভবতীর উপসর্গ সাধারণত আগে দেখা দেয় না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গুর মতো জিকা থেকে মুক্ত থাকতে হলে মশার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এডিস মশার ব্যাপারে বেশি নজর দিতে হবে।


মন্তব্য