kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


৬ দিনের রিমান্ডে ওবায়দুল ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকার

নিজস্ব ও আদালত প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



৬ দিনের রিমান্ডে ওবায়দুল ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকার

ঘাতক ওবায়দুল খান

রাজধানীর কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা (১৪) হত্যার ঘটনায় আসামি ওবায়দুল খান পুলিশের কাছে প্রাথমিক স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে রিশা হত্যার প্রতিবাদে এবং আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

নীলফামারী থেকে ওবায়দুলকে গ্রেপ্তার করার পর পুলিশ গতকাল বিকেলে তাকে সিএমএম আদালতে হাজির করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আলী হোসেন। ঢাকা মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু আদালতে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এ সময় ওবায়দুলের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এদিকে রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই ওবায়দুল ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকার করেছে। তবে সে দাবি করেছে, গ্রামের বাড়ির সব সম্পত্তি বিক্রি করে সে ঢাকায় একটি টেইলারিং দোকান দিতে চেয়েছিল। এরপর রিশাকে বিয়ে করে সংসার করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু রিশা বিয়ে করতে রাজি হয়নি। এ কারণে সে রিশাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তার এড়াতে ওবায়দুল নিজের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে এবং ছুরি ফেলে দেয়। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি কোথায় সে বিষয়ে তথ্য দেয়নি ওবায়দুল। তার দেওয়া তথ্য রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে যাচাই করা হবে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে ইস্টার্ন মল্লিকা মার্কেটের বৈশাখী টেইলার্সে কাপড় সেলাই করাতে দেন রিশার মা তানিয়া হোসেন। টেইলার্সের কর্মচারী ওবায়দুল রিসিট কপি থেকে ফোন নম্বর নিয়ে রিশাকে বিরক্ত করতে থাকে। এ বিষয়ে রিশার মা শাসালেও ওবায়দুল শোনেনি। ২৪ আগস্ট রিশা স্কুলের পরীক্ষা শেষ করে কাকরাইল ফুট ওভারব্রিজ পার হতে গেলে ওবায়দুল বাধা দেয়। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে রিশাকে ছুরিকাঘাত করে ওবায়দুল পালিয়ে যায়। ২৮ আগস্ট ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রিশার মৃত্যু ঘটে। এরপর সহপাঠীসহ বিভিন্ন সংগঠন রিশা হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।

স্কুল শিক্ষার্থী রিশা হত্যার প্রতিবাদে গতকালও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছেন উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত তাঁরা কাকরাইল মোড়ে মানববন্ধন পালন করেন। বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে কয়েক শ শিক্ষার্থী অবস্থান নেয় সেখানে। তারা ওবায়দুলের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। সেখানে রিশার শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছি। আসামি ওবায়দুলের ফাঁসি দাবি করছি আমরা। ’

স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র কাজী তাওহীদ বলে, ‘ওবায়দুলের ফাঁসি যেদিন কার্যকর হবে সেদিন আমরা খুশি হব। ’

দুই দিনের কর্মসূচি : রিশা হত্যার প্রতিবাদে গঠন করা ছাত্র জোট দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আজ শুক্রবার দেশের সব মসজিদে জুমার নামাজ শেষে রিশার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামীকাল শনিবার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সব শিক্ষার্থীকে হেঁটে রিশার কবর জিয়ারত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

মহিলা পরিষদের মানববন্ধন : গতকাল সকাল ১১টায় উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখা। মানববন্ধনে নেতারা বলেন, রিশার হত্যাকারীর ফাঁসি কার্যকর জরুরি। সেই সঙ্গে মিতু, তনু ও আফসানা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস বলেন, ‘আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থা ধীরগতির হওয়ায় অনেক সময় সুষ্ঠু বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। রিশা হত্যার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার দাবি জানাচ্ছি। ’ একই সময়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন স্কুলটির সামনে প্রতিবাদ সভা করেছে। সংগঠনের নেতারা এ ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

 


মন্তব্য