kalerkantho


চাঁদপুরে লরির তেলে আগুন একজনের মৃত্যু, দগ্ধ ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক ও চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চাঁদপুরে লরির তেলে আগুন একজনের মৃত্যু, দগ্ধ ৪

চাঁদপুরে ট্যাংক লরি থেকে তেল সরবরাহ করার সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বুধবার মধ্যরাতের এই ঘটনায় লরিটিসহ পাশের কয়েকটি বাড়িও পুড়ে গেছে।

এ সময় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে রায়হান (২২) নামের একজন গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন। গুরুতর আহত আরো চারজন বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তাঁরা হলেন নূর মোহাম্মদ মামুন, মাসুদ, বাদশা মিয়া ও মিজানুর রহমান।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শঙ্কর পাল জানান, গতকাল ভোর ৬টার দিকে দগ্ধ পাঁচজনকে চাঁদপুর থেকে বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হয়। দ্রুতই তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এঁদের মধ্যে রায়হান নামের একজন গতকাল রাত পৌনে ৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহত অন্য চারজনের অবস্থাও সংকটাপন্ন। তাঁদের সবারই শ্বাসনালিসহ শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে গেছে। তেলের কারণে দেহের চামড়াও গভীরভাবে পুড়ে গেছে। দগ্ধদের মধ্যে মাসুদ হোসেনের শরীরের ৯০ শতাংশ, মারা যাওয়া রায়হানের বাবা মিজানুর রহমানের ৬৮ শতাংশ, বাদশা মিয়ার ৪০ শতাংশ ও নূর মোহাম্মদ মামুনের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চাঁদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে যমুনা কম্পানির একটি ট্যাংক লরি থেকে পাশের গোডাউনে তেল সরবরাহ করার সময় আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তা তেলের গোডাউনসহ আশপাশের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ইতিমধ্যে লরিসহ পাশের কয়েকটি বাড়ি ভস্মীভূত হয়। বেশ কিছু বাড়ি থেকে নারী ও শিশুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া তিনতলা একটি বাড়ি থেকে মই দিয়ে আটকে পড়াদের নামিয়ে আনা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত পৌনে ৩টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। তাদের দ্রুত চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে এদের মধ্য থেকে পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। আহত অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বেলাল হোসেন জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো দগ্ধদের সবার অবস্থাই গুরুতর।

এদিকে ঘটনা তদন্তে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করেছেন জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মণ্ডল। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যে কমিটিকে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, যে গোডাউনে তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল সেটির মালিক স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা সোহেল মিজির বাবা মিজানুর রহমান। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান দর্জি জানান, আগুনে একটি তেলের লরিসহ অন্তত ১০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর ট্যাংক লরির চালক ও সহকারী পালিয়ে যায়।

চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফারুক আহমেদ জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছে। আর আগুনে শুধু তেলের লরি নয়, পাশের একটি তেল ও বোতলজাত গ্যাসের গোডাউন এবং কয়েকটি বাড়িও পুড়ে গেছে।

এদিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মণ্ডল, পুলিশ সুপার শামছুন্নাহারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ওয়ালী উল্লাহ জানান, কী কারণে আগুন লেগেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে কোনো মামলা বা অভিযোগ দেওয়া হয়নি।


মন্তব্য